• বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ড্রোন শোতে আবেগঘন বিদায় পেলেন লিওনেল মেসি জাতীয় দল থেকে অবসর নিলেন ফুটবলের কিংবদন্তি মেসি আবেগী বিদায়: শেষ ম্যাচে মেসি ঝলকে জয়ী আর্জেন্টিনা নতুন রাডার ব্যবস্থায় আকাশসীমায় রাজস্ব ও নজরদারিতে বড় সাফল্য জুলাই সনদ যেভাবে স্বাক্ষর হয়েছে, সেভাবেই বাস্তবায়ন করব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী ৭ অক্টোবর ঢাবিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সম্মেলন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্বীকৃতিসহ তিন দাবিতে বিশেষ কমিটির বৈঠক ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য দ্রুত নীতিমালা হচ্ছে: মন্ত্রী শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রী ভোগান্তি: ট্রলি ও লাগেজ সংকট চরমে বাংলাদেশ পুলিশের নতুন মুখপাত্র হিসেবে কামারুম মুনিরার দায়িত্ব গ্রহণ

নতুন রাডার ব্যবস্থায় আকাশসীমায় রাজস্ব ও নজরদারিতে বড় সাফল্য

রিপোর্টার: / ৮ পঠিত
আপডেট: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬

ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নতুন রাডার ও অত্যাধুনিক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থা চালুর ফলে বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। উন্নত প্রযুক্তির এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদেশি উড়োজাহাজগুলোকে আগের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকরভাবে শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণ করা যাচ্ছে, যা দেশের আকাশসীমার নিরাপত্তাকে করেছে সুসংহত। একইসঙ্গে এই আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের সুফল হিসেবে ওভারফ্লাই ফি আদায়ের ক্ষেত্রেও মিলেছে বড় সাফল্য।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেবল আকাশসীমা ব্যবহারের ফি বাবদ সরকারের আয় হয়েছে ৮০০ কোটি টাকারও বেশি। অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস অর্থাৎ জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এই খাতের আয় ছিল ৩৩৮ কোটি টাকার উপরে। পরবর্তীতে নতুন রাডার ব্যবস্থা ও আধুনিক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার পুরোদমে কার্যকর হওয়ার পর এর প্রভাবে দ্বিতীয় ছয় মাসে রাজস্ব আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪১৬ কোটি টাকায়। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তি পুরোপুরি সক্রিয় হওয়ার পর এখন প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব হচ্ছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শুধু ওভারফ্লাই ফি থেকেই সরকারের আয় হয়েছে ৮০৫ কোটি টাকার বেশি।

দীর্ঘদিন ধরে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনার বড় একটি দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত ছিল। পুরোনো রাডার ব্যবস্থার সক্ষমতা সীমিত থাকায় বিশেষ করে বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন আকাশসীমায় অনেক উড়োজাহাজকে সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হতো না। এতে বিদেশি উড়োজাহাজের চলাচল নিয়মিত করা এবং যথাযথ ফি আদায় ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। গত এপ্রিল মাসে নতুন টাওয়ার ও রাডার ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে সেই দীর্ঘস্থায়ী প্রযুক্তিগত ঘাটতি দূর হয়েছে।

প্রায় ৯৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে ফ্রান্সের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থেলসের সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে অত্যাধুনিক রাডার, যোগাযোগ ও নজরদারি প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক রুট হিসেবে বাংলাদেশের আকাশসীমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই আধুনিক রাডার ও ব্যবস্থাপনা শুধু আকাশপথে নিরাপত্তাই নিশ্চিত করছে না, বরং তা জাতীয় অর্থনীতিতে নিয়মিত রাজস্ব আয়ের একটি বড় উৎস হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ