
ফুটবল ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র লিওনেল মেসি তার বর্ণিল আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন এক স্মরণীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে। আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিজের বিদায়ী ম্যাচে বেনিনের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। আর এই ম্যাচটি কেবল মাঠের নৈপুণ্যের জন্য নয়, বরং ম্যাচ শেষে আকাশে ড্রোন শোয়ের মাধ্যমে তাকে দেওয়া অভাবনীয় বিদায় সংবর্ধনার জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। অসংখ্য রেকর্ড, ব্যক্তিগত অর্জন আর দলীয় সাফল্যে নিজেকে নিয়ে গেছেন কিংবদন্তির কাতারে। আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের দীর্ঘ অপেক্ষারও অবসান ঘটিয়েছেন তিনি। সেই মেসিই এবার জাতীয় দলের জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নেমে পেরিয়ে গেলেন ক্যারিয়ারের আরেকটি আবেগঘন অধ্যায়। আর ম্যাচ শেষে মনুমেন্টালে অপেক্ষা করছিল মেসিকে ঘিরে আরও বিশেষ এক বিদায়ী আয়োজন।
ম্যাচটিতে মেসি তার চিরাচরিত ছন্দেই ছিলেন। তিনি নিজে একটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও দুটি গোল। ম্যাচের ৭১তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোলটি করেন এই মহাতারকা। এর আগে নিকোলাস ওতামেন্দি এবং নিকো পাজের গোল দুটিতে অ্যাসিস্ট ছিল তার। সব মিলিয়ে নিজের ২০৮তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট নিয়ে মাঠ ছাড়লেন তিনি। আলবিসেলেস্তেদের হয়ে ১২৬ গোল ও ৭০ অ্যাসিস্টের অবিশ্বাস্য এক পরিসংখ্যান নিয়ে শেষ হলো তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পথচলা। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে দুটি গোল করিয়েছেন সতীর্থদের দিয়ে, পাশাপাশি নিজেও করেছেন একটি গোল। তবে খেলা শেষ হলেও মনুমেন্টালের গ্যালারি ছাড়েননি দর্শকেরা।
ম্যাচ শেষে মাঠের পরিস্থিতির চেয়ে আকাশ ছিল সবার আকর্ষণের কেন্দ্রে। হাজারো ড্রোন ব্যবহার করে আকাশে ফুটিয়ে তোলা হয় ‘মেসি, ১০’ লেখাটি। তবে সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি ছিল যখন ড্রোনগুলো মিলে ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ী মেসির ছবি আকাশজুড়ে ফুটিয়ে তোলে। এই বিশেষ দৃশ্যটি স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকদের চোখে জল এনে দেয়। সমর্থকদের ভালোবাসা আর প্রযুক্তির মেলবন্ধনে ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ফুটবলারের বিদায়টি হলো অত্যন্ত মহিমান্বিত। এরপর আকাশে ভেসে ওঠে ‘মেসি, ১০’ লেখা। ম্যাচ শেষে মেসির হাতে স্মারক হিসেবে একটি বক্স তুলে দেন রেফারি।