
২১ বছরের দীর্ঘ বর্ণিল আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে যতি টেনে দিলেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। তার এই বিদায়ি ম্যাচটি ছিল এক আবেগঘন মুহূর্ত, যেখানে আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলের দাপুটে জয় তুলে নিয়ে উৎসবে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে। ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হলেও দ্বিতীয়ার্ধে দৃশ্যপট পাল্টে যায়। দলের প্রতিটি গোলের পেছনেই ছিল মেসির সরাসরি অবদান, যা প্রমাণ করে তার পায়ের জাদু এখনো কতটা ধারালো। মাঠের এই পারফরম্যান্স কেবল সমর্থকদের আনন্দই দেয়নি, বরং তার বিদায়কে করে তুলেছে স্মরণীয়। কাঁদছেন সতীর্থ, কোচ থেকে শুরু করে কাছ থেকে মেসিকে দেখা সকলেই। এস্তাদিও মনুমেন্তালে কিংবদন্তি তারকার জন্যই ছিল পুরো আয়োজন। পেনাল্টিতে শেষ গোলটি করার আগে নিকোলাস ওতামেন্দি ও নিকো পাজকে দিয়ে করিয়েছেন বাকি দুই গোল। মেসি মাইক হাতে যখন শুরুটা করছিলেন তখন তার মুখে চওড়া হাসি।
বিদায়ী বক্তব্যে মেসি দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়ে রাখার স্মৃতি রোমন্থন করেন। তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই শার্টটির প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য ছিল এক বিরাট গর্বের বিষয়। আমরা কখনও লড়াই থামাইনি, নিজেদের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দেওয়া বন্ধ করিনি। সেই সাথে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ আসরের স্মৃতি টেনে তিনি বলেন, আমরা আবারও সেই আসরে বিশ্বকাপ জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম। এই দীর্ঘ পথচলায় লড়াইয়ের মানসিকতাই তাদের সব সাফল্যের মূলমন্ত্র ছিল বলে তিনি মনে করেন।
নিজের সতীর্থদের ‘বীর যোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে মেসি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আমি আমার সকল সতীর্থকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তারা ছিল আমার লড়াইয়ের প্রকৃত সঙ্গী। বিদায়বেলায় তিনি নিজের উত্তরসূরীদের জন্য শুভকামনা জানানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের কঠিন সময় নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। অসংখ্য রেকর্ডের মালিক এই তারকা বলেন, আমি জাতীয় দলের হয়ে খেলাটা মিস করব। আমার সতীর্থদের প্রতি যে টান, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমি এই জায়গা ছেড়ে যেতে চাই না, তবে সময়ের দাবি মেনেই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তার এই বক্তব্য জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
মেসির অবসরের সাথে সাথে বিশ্ব ফুটবলে একটি যুগের সমাপ্তি ঘটল। ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি যে অভাবনীয় সাফল্য ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন, তা হয়তো ইতিহাসে বিরল। ভক্তদের হৃদয়ে তিনি কেবল একজন খেলোয়াড় নন, বরং অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে থাকবেন। ম্যাচ শেষে মাঠ ছাড়ার সময় তার চোখেমুখে যে বিষণ্নতা ছিল, তা কোটি কোটি ভক্তের হৃদয়েও নাড়া দিয়েছে। মেসি তার বিদায়ী বার্তায় বারবার দলের লড়াইয়ের কথা ও দেশের প্রতি ভালোবাসার কথা উল্লেখ করেছেন, যা প্রমাণ করে আর্জেন্টিনার প্রতি তার দায়বদ্ধতা ছিল অকৃত্রিম। যদিও তিনি মাঠ থেকে বিদায় নিচ্ছেন, কিন্তু ফুটবলের ইতিহাসে তার নাম যে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। এই বিদায় শুধু একটি ক্যারিয়ারের সমাপ্তি নয়, বরং ফুটবলের এক মহাকাব্যিক অধ্যায়ের ইতি টানার মুহূর্ত। আর্জেন্টাইন মহাতারকা বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের হৃদয়ে যে আলোড়ন তুলেছিলেন তা বলাই বাহুল্য। ফলে কোটি পাগলপারা মানুষ তার এই বিদায়ী মুহূর্তে বুক ভাসাবেন তাও অনুমান করা কঠিন নয়। এরপর তিনি কথা বলতে শুরু করেন মাসখানেক আগে হারানো বাবাকে দিয়ে, ‘কী বলব ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না।