
নিজস্ব প্রতিবেদক।।
সংবিধান সংশোধন কার্যক্রমকে দেশের মানুষের কল্যাণ, জাতীয় স্বার্থ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেছেন, একটি স্বচ্ছ, সুস্পষ্ট ও যুগোপযোগী সাংবিধানিক কাঠামো গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সবার মতামত, পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রয়োজন।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ বলেন, জুলাইয়ের সংগ্রামে সম্মুখ সারিতে অংশগ্রহণকারী, সংগ্রামকে হৃদয়ে ধারণকারী এবং দেশের জন্য রক্তদানকারী জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পেরে তিনি ব্যক্তিগতভাবে গর্বিত। এ ধরনের আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো সংশ্লিষ্টদের মতামত ও প্রত্যাশা জানা এবং সংস্কার বিষয়ে সরকারের অবস্থান, গৃহীত উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তাঁদের স্পষ্ট ধারণা দেওয়া।
তিনি বলেন, ‘সংবিধান সংশোধন সাপেক্ষে সংস্কারের বিষয়সমূহ’ শীর্ষক প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট সবাইকে গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করতে হবে। মতামত ও সম্মতির ভিত্তিতে পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
নূরুল ইসলাম মনি আরও বলেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে যেসব পরিবর্তন আনা হবে, সেগুলোই সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। তাই সাংবিধানিক কাঠামো ও নির্ধারিত সংশোধন প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে মতপার্থক্য ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা জরুরি।
তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিদের গুরুত্ব তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, বর্তমান যুবসমাজ, বিশেষ করে জেনারেশন জেড (জেন-জি) ও জেনারেশন আলফার প্রতিনিধিরা আগামী দিনে দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর অর্পিত দায়িত্বের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তাঁদের মতামত ও প্রত্যাশাকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা, জনগণের স্বার্থ রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম একটি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য সাংবিধানিক কাঠামো গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
এ লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে চিফ হুইপ সংবিধান সংশোধন ও সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সবার মতামত, পরামর্শ ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।