
ন্যায়বিচার নিশ্চিতেই স্বচ্ছ ও পেশাদার বিচার কার্যক্রম চলছে: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েই ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনাল ও প্রসিকিউশন উভয় পক্ষই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। আসামিপক্ষকে আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে এবং একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর বক্তব্য, সাক্ষ্য ও প্রমাণ সংগ্রহে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, International Crimes Tribunal Bangladesh-এ বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংক্রান্ত একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত পাঁচটি মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে এবং আরও কয়েকটি মামলার রায় অপেক্ষমাণ অবস্থায় রয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত ঘটনায় আহত, নিহত, গুম ও হত্যার শিকার পরিবারের প্রতি তিনি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং তাদের ন্যায়বিচারের প্রত্যাশাকে নিজের প্রত্যাশা হিসেবে দেখেন।
তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় ২২টি মামলা বিচারাধীন, ৩১টি মামলার তদন্ত চলছে এবং আরও শতাধিক অভিযোগ পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। এসব মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ, নথি বিশ্লেষণ ও ফরেনসিক তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলমান।
মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মামলাগুলো অত্যন্ত জটিল, কারণ এতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন পেশার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত থাকায় প্রমাণ সংগ্রহ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সব বাধা অতিক্রম করে তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিচার প্রক্রিয়ায় বিলম্ব না করে যেমন ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হচ্ছে, তেমনি দ্রুত রায় দিতে গিয়ে যাতে কোনো ধরনের অবিচার না হয় সে বিষয়েও সতর্ক থাকা হচ্ছে।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে নিয়মিত গণশুনানির আয়োজন করা হচ্ছে। এতে পরিবারগুলো সরাসরি তাদের বক্তব্য ও তথ্য উপস্থাপন করতে পারছে।
তিনি বলেন, প্রতিদিন নিয়মিত আদালত বসছে এবং তদন্ত কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সাক্ষাৎকার গ্রহণ, প্রমাণ সংগ্রহ ও ফরেনসিক বিশ্লেষণসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি আরও বলেন, ট্রাইব্যুনালের কাঠামো এমনভাবে গঠিত যাতে প্রতিটি মামলায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়। আসামিপক্ষের অধিকার রক্ষা এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার—দুটিই সমানভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বিচার কার্যক্রম ধীর বা তাড়াহুড়োর মধ্যে নয়, বরং নিয়মিত ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছে। দেশের মানুষ ন্যায়বিচার চায়, আর সেই লক্ষ্যেই ট্রাইব্যুনাল কাজ করছে।