• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের সঙ্গে ৬টি চুক্তি-সমঝোতা, বাংলাদেশকে ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলারের ঋণ প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনকে ডা. জুবাইদার আহ্বান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস নীলগঞ্জের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা, হাজিপুরে মতবিনিময়ে অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন যুদ্ধের কারণে আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারবেন বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান, সার কারখানা স্থাপনেও সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ তোমাদের মধ্যেই দেখি নতুন বাংলাদেশ, নতুন স্বপ্ন’—শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি কলাপাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমজীবী নুরুল ইসলাম ফকিরের মৃত্যু কলাপাড়ায় তুচ্ছ ঘটনায় পিতা ও পুত্রকে পিটিয়ে আহত ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলো প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব

দেশে গ্যাস উৎপাদন কমে ৩৭% হ্রাস, এলএনজির ওপর বাড়ছে নির্ভরতা ও ঝুঁকি

রিপোর্টার: / ১০৭ পঠিত
আপডেট: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬

দেশে গ্যাস উৎপাদন কমে ৩৭% হ্রাস, এলএনজির ওপর বাড়ছে নির্ভরতা ও ঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশে ধারাবাহিকভাবে কমছে স্থানীয় উৎসের গ্যাস উৎপাদন, ফলে বাড়ছে আমদানিনির্ভরতা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা। গত আট বছরে দেশের স্থানীয় গ্যাস উৎপাদন প্রায় ৩৭ শতাংশ কমে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশে স্থানীয় উৎস থেকে দৈনিক গড়ে ২৬৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হতো। ২০১৮ সালে একদিনে সর্বোচ্চ উৎপাদন হয়েছিল ২৭০ কোটি ঘনফুট। তবে বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭০ কোটি ঘনফুটে। ফলে ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশকে ব্যাপকভাবে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

বর্তমানে দেশে দৈনিক মোট গ্যাস সরবরাহ প্রায় ২৫২ কোটি ৯৮ লাখ ঘনফুট। এর মধ্যে এলএনজি থেকে আসছে ৮২ কোটি ২৪ লাখ ঘনফুট এবং স্থানীয় উৎস থেকে ১৭১ কোটি ঘনফুট। স্থানীয় উৎপাদনের বড় অংশই আসছে বিদেশি দুই কোম্পানি শেভরন ও তাল্লোর কাছ থেকে, যারা মিলিয়ে দৈনিক প্রায় ৯৫ কোটি ৩০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি কোম্পানি সরবরাহ করছে প্রায় ৭৫ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট।

দেশে বর্তমানে ২৯টি গ্যাসক্ষেত্র থাকলেও সক্রিয়ভাবে উৎপাদন চলছে ২০টি ক্ষেত্র থেকে। এর মধ্যে সিলেট, তিতাস, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, বিবিয়ানা, মৌলভীবাজারসহ বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র উল্লেখযোগ্য। তবে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে স্থবির থাকায় উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।

সরকার পূর্বে ৫০টি নতুন গ্যাস কূপ খননের পরিকল্পনা নিলেও নির্ধারিত সময়ে ৩০টির বেশি কূপ খনন করা যায়নি। খননকৃত কূপগুলো থেকে প্রায় ২৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের মজুদ নিশ্চিত হলেও জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে মাত্র ১৭ কোটি ঘনফুট। আবিষ্কৃত অনেক গ্যাসক্ষেত্র, বিশেষ করে ভোলার গ্যাস, পাইপলাইন সংকটের কারণে এখনো ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

স্থানীয় উৎপাদন কমে যাওয়ায় ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশ এলএনজি আমদানি শুরু করে। এ জন্য কাতার এনার্জি ও ওমানের ওকিউ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা হয়েছে। পাশাপাশি স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি কেনা হচ্ছে।

গত সাত অর্থবছরে (২০১৮-১৯ থেকে ২০২৪-২৫) এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১১৫ কার্গো এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে, যার সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৫১ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৭৫ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হয়েছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে বাংলাদেশকে বেশি দামে এলএনজি কিনতে হচ্ছে। চলতি মাসেই পাঁচটি কার্গো দ্বিগুণ দামে কিনতে হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে করে জ্বালানি খাতে ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে জোর না দিলে ভবিষ্যতে সংকট আরও বাড়তে পারে।

এদিকে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে শ্রীকাইল ও বিয়ানীবাজার গ্যাসক্ষেত্র থেকে নতুন করে কিছু গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। এছাড়া কূপ খনন কার্যক্রম বাড়াতে নতুন রিগ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে আরও ৮ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে ১১৭টি কূপ খননের মাধ্যমে ১৫৩ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে, স্থানীয় উৎপাদন হ্রাস, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাবে দেশের জ্বালানি খাত এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। দীর্ঘমেয়াদে টেকসই সমাধানের জন্য দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার এবং আমদানিনির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ