
নিজস্ব প্রতিবেদক:
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এর মধ্য দিয়ে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
এর আগে রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। পরদিন সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় তিনি লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দেন। নিয়ম অনুযায়ী, পদত্যাগপত্রটি প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপতি তা গ্রহণ করার পর মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে বিতর্ক
ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের পেছনে রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার ঘটনাটি আলোচনায় আসে। গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার একাধিক ভিডিও নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন তিনি।
এর মধ্যে একটি ভিডিওতে তাঁকে অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নিতে দেখা যায়। তাঁর সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তির হাতেও অস্ত্র দেখা যায়। অন্য একটি ভিডিওতে কয়েকজনকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর একজন জনপ্রতিনিধির অস্ত্র হাতে এ ধরনের অভিযানে অংশ নেওয়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ও সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দেয়।
দল ও সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় পদত্যাগের ঘোষণা
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন বলেন, তাঁর কারণে বিএনপি বা সরকার যাতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না পড়ে এবং প্রধানমন্ত্রীর কাজ আড়ালে পড়ে না যায়, সে বিবেচনায় তিনি প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি দাবি করেন, আত্মরক্ষার স্বার্থে সাময়িকভাবে অস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন এবং এ ঘটনায় কোনো আইন লঙ্ঘন করেননি। তবে দলের ভাবমূর্তি ও সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়লেও মাদকের বিরুদ্ধে কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক। সাধারণ দলীয় কর্মী হিসেবে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি।
ইশরাক হোসেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন আহমেদ আযম খান। ইশরাকের পদত্যাগের পর মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০ জনে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীসহ পূর্ণ মন্ত্রী ২৭ জন এবং প্রতিমন্ত্রী ২৩ জন রয়েছেন।