
শেখ ফারুক হোসেন, সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি:
দেশব্যাপী হত্যা, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ এবং মব সহিংসতার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘সহিংসতা নয়, সুবিচার চাই’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ কর্মসূচি থেকে অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের আইনের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
রোববার (১৮ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পিটিআই-সংলগ্ন পিএন স্কুল মাঠে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এক্টিভিস্টা সাতক্ষীরার আয়োজনে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিডোর বাস্তবায়নে এবং অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় কর্মসূচিতে বিভিন্ন যুব সংগঠনের সদস্য, তরুণ স্বেচ্ছাসেবক, সামাজিক ও মানবাধিকারকর্মী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, নেটওয়ার্কের সদস্য এবং সাংবাদিকরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে জেলা সম্প্রীতি ও সুরক্ষা কমিটি, ইয়ুথ অ্যালায়েন্স নেটওয়ার্ক, সিডো, স্বদেশ, প্রগতি, সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটি, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন, বিডি ক্লিন, ভিবিডি, জেডিএফ, প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন কল্যাণ সমিতিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ, মানবিক, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষের জীবন, মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা অপরিহার্য। কিন্তু হত্যা, ধর্ষণ, নারী ও শিশুর প্রতি নির্যাতন এবং মব সহিংসতার মতো ঘটনা জনমনে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করছে। এসব সহিংসতা সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক আস্থা এবং আইনের শাসনের প্রতি মানুষের বিশ্বাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
তাঁরা বলেন, অপরাধের অভিযোগে কাউকে গণপিটুনি দেওয়া, গুজব কিংবা উসকানির ভিত্তিতে সহিংসতা সৃষ্টি করা এবং জনতার চাপে কাউকে শাস্তি দেওয়া কোনোভাবেই ন্যায়বিচারের বিকল্প হতে পারে না। অপরাধের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
বক্তারা আরও বলেন, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সব ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণ, গুজব ছড়ানো, উসকানি এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা রোধে তরুণ প্রজন্মকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
তাঁদের মতে, যুবসমাজ শুধু অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবে না, বরং মানবাধিকার সুরক্ষা, সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসনের পক্ষে জনসচেতনতা তৈরিতেও ভূমিকা রাখবে। সহিংসতামুক্ত, বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনে যুবসমাজ, নাগরিক সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
কর্মসূচিতে হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ ও মব সহিংসতাবিরোধী ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের পক্ষে সচেতনতামূলক বার্তা তুলে ধরা হয় এবং সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা হয়।
মানববন্ধন থেকে গুজব ও উসকানিমূলক তথ্য প্রতিরোধ, অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
কর্মসূচির মূল বার্তা ছিল—‘সহিংসতা নয়, ন্যায়বিচার চাই; মব নয়, আইনের শাসন চাই। ভয়মুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে যুবসমাজ ঐক্যবদ্ধ হই।’