
শান্তর সেঞ্চুরি ও মুস্তাফিজের ফাইফারে কিউইদের হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ
চট্টগ্রামে দারুণ এক অলরাউন্ড নৈপুণ্যে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ওয়ানডে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। সিরিজের নির্ধারণী ম্যাচে নাজমুল হোসেন শান্তর অসাধারণ সেঞ্চুরি ও মুস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৫৫ রানের জয় পায় টাইগাররা। এতে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।
টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই সাজঘরে ফেরেন সাইফ হাসান। এরপর দ্রুত তানজিদ হাসান তামিমও ফিরে গেলে চাপে পড়ে দল। তবে সেই ধাক্কা সামাল দেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও সৌম্য সরকার। যদিও ১৮ রান করে সৌম্য আউট হলে আবারও কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
এরপর লিটন কুমার দাসকে নিয়ে দারুণ এক জুটি গড়েন শান্ত। চতুর্থ উইকেটে দুজন মিলে যোগ করেন ১৬০ রান, যা বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়। লিটন ৭৬ রান করে আউট হলেও দুর্দান্ত ব্যাটিং চালিয়ে যান শান্ত। ধীরস্থির ইনিংস খেলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ১১৯ বলে ১০৫ রানের চমৎকার ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল ৯টি চার ও ২টি ছক্কা।
শেষদিকে তাওহীদ হৃদয়ের ৩৩ রানের ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৬৫ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।
২৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই হেনরি নিকোলসকে ফিরিয়ে দেন মুস্তাফিজুর রহমান। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে কিউইরা। উইল ইয়াং ১৯ ও টম ল্যাথাম ৫ রান করে আউট হলে বিপদে পড়ে সফরকারীরা।
মধ্য পর্যায়ে নিক কেলি ও মোহাম্মদ আব্বাস কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। কেলি ৫৯ রান ও আব্বাস ২৫ রান করলেও তাদের জুটি বড় হতে পারেনি। পরে ডিন ফক্সক্রফট একাই লড়াই চালিয়ে ৭৫ রান করেন, তবে সেটি শুধুই ব্যবধান কমিয়েছে।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। ৩০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে কিউইদের ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দেন তিনি। এছাড়া শরিফুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজও গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন।
শেষ পর্যন্ত ৪৪.৫ ওভারে ২১০ রানে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড। ফলে ৫৫ রানের জয় নিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ।
এই জয়ে ঘরের মাঠে দারুণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল টাইগাররা, যেখানে ব্যাট-বল দুই বিভাগেই ছিল সমান দাপট।