• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনকে ডা. জুবাইদার আহ্বান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস নীলগঞ্জের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা, হাজিপুরে মতবিনিময়ে অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন যুদ্ধের কারণে আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারবেন বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান, সার কারখানা স্থাপনেও সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ তোমাদের মধ্যেই দেখি নতুন বাংলাদেশ, নতুন স্বপ্ন’—শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি কলাপাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমজীবী নুরুল ইসলাম ফকিরের মৃত্যু কলাপাড়ায় তুচ্ছ ঘটনায় পিতা ও পুত্রকে পিটিয়ে আহত ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলো প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে ৬৪ জেলায় সমন্বিত কর্মসূচির আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের

হাওরে পানির ঢলে ডুবছে বোরো ধান, লাখো কৃষকের চোখে অনিশ্চয়তার ছায়া

রিপোর্টার: / ১০২ পঠিত
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

 হাওরে পানির ঢলে ডুবছে বোরো ধান, লাখো কৃষকের চোখে অনিশ্চয়তার ছায়া

অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের বিভিন্ন হাওরাঞ্চলে একের পর এক বোরো ধানক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও খাগড়াছড়িসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় লাখো কৃষক এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বছরের একমাত্র ফসল চোখের সামনে হারিয়ে অনেকেই ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে টানা বৃষ্টিতে ইতোমধ্যে বন্যার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অষ্টগ্রাম হাওরের কৃষক কামরুল ইসলাম বলেন, “পাকা ধান কাটতে পারি নাই শ্রমিকের অভাবে। অল্প কিছু কেটেছি, বাকিটা পানির নিচে চলে গেলো। মনে হয় না আর রক্ষা করতে পারমু।” জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। তবে কৃষকদের দাবি, ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি।

নিকলী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। পূর্বাভাস বলছে, আরও কয়েকদিন এমন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

সুনামগঞ্জেও একই চিত্র দেখা গেছে। জেলার ২০টির বেশি হাওরে অন্তত ১০ হাজার হেক্টর জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কৃষকদের ভাষ্য, গত দুই দিনের অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে এই বিপর্যয় নেমে এসেছে। অনেক এলাকায় বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পড়েছে। শাল্লা ও তাহিরপুরের এক কৃষক বলেন, “জমির ধান তো গেছেই, খলায় রাখা ধানও নষ্ট হয়ে গেছে।” কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, জেলার মাত্র ৪৪ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে, বাকিটা এখন ঝুঁকিতে রয়েছে।

নেত্রকোনায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ১৩২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। কংস নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার বিভিন্ন হাওরের অন্তত অর্ধেক ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কৃষক আসাদুল্লাহ রিয়াদ বলেন, “পাঁচ একর জমির ধান তলিয়ে গেছে। যেটুকু আছে, সেটাও কাটতে পারছি না।”

হবিগঞ্জে চার উপজেলায় প্রায় পাঁচ হাজার একর জমির ধান তলিয়ে গেছে। মৌলভীবাজারে অন্তত এক হাজার হেক্টর জমির ধান পানির নিচে রয়েছে। একইভাবে খাগড়াছড়িতে ২২১ হেক্টর ধানসহ সবজি ও ফলের বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক কৃষক জানিয়েছেন, ঋণ করে চাষ করা ফসল হারিয়ে তারা এখন চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আগাম সতর্কতা হিসেবে ধান দ্রুত কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু টানা বৃষ্টি, শ্রমিক সংকট এবং হাওরে জমে থাকা পানির কারণে অনেক ক্ষেতেই তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈরী আবহাওয়া ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। তবুও কৃষকদের সহায়তায় কাজ চলমান রয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করে জানিয়েছে, ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আরও কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত বাড়ায় ঢলের চাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কৃষকদের অভিযোগ, বাস্তব ক্ষতির তুলনায় সরকারি হিসাব কম দেখানো হচ্ছে। হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের নেতারা বলছেন, অনেক হাওরের অর্ধেকের বেশি ধান ইতোমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। এক কৃষকের কণ্ঠে হতাশা স্পষ্ট, “চোখের সামনে সব শেষ হয়ে গেলো, কিছুই করতে পারলাম না।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ