
‘জাতীয় সরকার না হলে সেনাশাসনের ঝুঁকি ছিল’—সংসদে নাহিদ ইসলামের বিস্ফোরক বক্তব্য
জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম একাধিক রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ইস্যুতে তীব্র বক্তব্য দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে তিনি বলেন, একসময় দেশের সামনে “জাতীয় সরকার” অথবা “সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর”—এই দুই বিকল্পই ছিল।
নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও বিএনপি তা গ্রহণ করেনি। তিনি বলেন, “সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা গেলে বিএনপি এখনও ক্ষমতায় আসতে পারতো না।” একই সঙ্গে সংবিধানের ধারাবাহিকতার প্রশ্ন তুলে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণে বাধা দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। তার ভাষায়, “এখন তো সাংবিধানিক সংকট নেই, তাহলে কেন রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ বা গ্রেফতার করা হচ্ছে না?”
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, দুদকের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাকে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, “এমন একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে রাখা দেশের জন্য দুর্ভাগ্যজনক।”
সংবিধান নিয়েও সমালোচনা করে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানকে একাত্তরের চেতনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখানো হয়েছে, যা তিনি সঠিক মনে করেন না। তার মতে, “এই সংবিধান ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার একটি কাঠামো তৈরি করেছে এবং এটি মূলত এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থার প্রতিফলন।”
তিনি আরও বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে নতুন সংবিধান প্রণয়নের দাবি উঠেছিল। “আমরা শুরু থেকেই সংবিধান পুনর্লিখনের কথা বলেছি। কিন্তু বিএনপি নির্বাচনকেন্দ্রিক পথে এগোতে চেয়েছে,” উল্লেখ করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, “জুলাই সনদ” স্বাক্ষরের সময় ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে সেটিকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। তার দাবি, একটি রাজনৈতিক দলের ইন্ধনে এই বিভক্তি তৈরি করা হয়েছে, যা জাতীয় ঐকমত্যকে দুর্বল করেছে।
তার এই বক্তব্যে সংসদে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।