
“গেরুয়া সন্ত্রাস ঠেকাতে পররাষ্ট্রনীতি নতুনভাবে সাজাতে হবে” — নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
শিরোনাম: শাপলা চত্বর থেকে সীমান্ত রাজনীতি: ‘গেরুয়া সন্ত্রাস’ মোকাবিলার আহ্বান এনসিপির
নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, সীমান্তে “গেরুয়া সন্ত্রাস” মোকাবিলায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি থেকে শুরু করে সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় কৌশল নতুনভাবে সাজানো প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে আয়োজিত ‘শাপলার শহিদগাথা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শাপলা স্মৃতি সংসদ। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ২০২১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময়কার আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “মোদি যখন বাংলাদেশে এসেছিলেন, তখন আপনারা রাজপথে নেমেছিলেন। অনেক ভাই শহিদ হয়েছেন। সেই আত্মত্যাগ যদি মনে থাকে, তাহলে বাংলাদেশে গেরুয়া সন্ত্রাসের সামান্য উপস্থিতিও রক্ত দিয়ে প্রতিরোধ করা হবে।”
২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “হেফাজতে ইসলামের দাবিগুলো আমরা ভুলে যাইনি। সেই দাবিগুলো এখনো আমাদের হৃদয়ে আছে। বাংলাদেশে যতদিন থাকব, ততদিন ইসলাম ও দেশের সার্বভৌমত্বের প্রহরী হিসেবে কাজ করব ইনশাআল্লাহ।”
আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে “মিডিয়া সন্ত্রাস” চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, “শাপলা গণহত্যার সময় বলা হয়েছিল সেখানে একজনও মারা যায়নি। অথচ এখন তারাই ৩৬ জন নিহতের কথা স্বীকার করছে।”
এ সময় তিনি “সঠিক তথ্য প্রচারের” লক্ষ্যে ‘শাপলা’ নামে একটি নতুন টেলিভিশন চ্যানেল চালুর প্রস্তাব দেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইসলামি সংগঠনের নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা ও রাজনৈতিক কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা শাপলা চত্বরের ঘটনার বিচার ও নিহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি জানান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে শাপলা চত্বর ইস্যু ও সীমান্ত রাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন মহলের বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিচ্ছে।