
:
রাশিয়ায় কর্মসূত্রে গিয়ে পরে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন কিশোরগঞ্জের রিয়াদ রশিদ। ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় নিহত হওয়ার এক সপ্তাহ পর পরিবারের কাছে পৌঁছায় মৃত্যুর খবর। ছেলের মরদেহও পাননি স্বজনরা।
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ভয়াবহতায় এবার প্রাণ হারালেন বাংলাদেশের এক যুবক। ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় নিহত হয়েছেন কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা মো. রিয়াদ রশিদ (২৮)। তিনি রুশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
নিহত রিয়াদ করিমগঞ্জ উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের মাঝিরকোনা গ্রামের বাসিন্দা। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। তার বাবা মো. আব্দুর রশিদ একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক।
পরিবার জানায়, গত বছরের অক্টোবর মাসে একটি কোম্পানিতে কাজের উদ্দেশ্যে রাশিয়ায় যান রিয়াদ। পরে চলতি বছরের ৭ এপ্রিল রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তার ব্যাচ নম্বর ছিল ৭৩৫। তবে সেনাবাহিনীতে যোগদানের বিষয়টি পরিবারকে তিনি জানাননি।
শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যায় রিয়াদের বন্ধু লিমন দত্ত মেসেঞ্জারের মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর পরিবারকে জানান। লিমন নিজেও একই সেনা ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। ড্রোন হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়ে একটি পা হারিয়েছেন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
লিমনের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২ মে রুশ সীমান্ত এলাকায় ইউক্রেনীয় বাহিনী ড্রোন হামলা চালায়। এতে রিয়াদসহ দুই বাংলাদেশি ও একজন নাইজেরীয় নাগরিক নিহত হন। হামলায় আরও তিনজন আহত হন।
ছেলের মৃত্যুর সংবাদে ভেঙে পড়েছেন বাবা আব্দুর রশিদ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন,
“রিয়াদ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছে, এটা আমাদের জানায়নি। জানলে কখনোই তাকে সেখানে যেতে দিতাম না। এখন শুনছি ড্রোন হামলায় সব শেষ হয়ে গেছে। আমি তো আমার ছেলের লাশটাও দেখতে পাচ্ছি না।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেছেন। জাফরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাদাৎ মো. সায়েম বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে।
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরানুল কবির বলেন, পুলিশ রিয়াদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।
এদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত রাশিয়া-ইউক্রেন পরিস্থিতিতে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কাজের উদ্দেশ্যে বিদেশে গিয়ে অনেক তরুণ বিভিন্নভাবে যুদ্ধ পরিস্থিতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।