• রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০৮:২৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
কুমিল্লা বিভাগ দাবিতে ইতিবাচক প্রধানমন্ত্রীর বার্তা, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েরও আশ্বাস অর্থনীতি এখনো চাপে, পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে লাগতে পারে আরও দুই বছর: অর্থমন্ত্রী পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার পাঁচ খুন মামলার প্রধান আসামি ফোরকান মোল্লার মরদেহ রাজশাহীর সমাবেশে বিএনপিকে নিয়ে কড়া মন্তব্য জামায়াত আমিরের, উত্তপ্ত রাজনৈতিক মাঠ করব কাজ, গড়ব দেশ”—খাল পুনঃখনন উদ্বোধনে উন্নয়ন পরিকল্পনার বার্তা প্রধানমন্ত্রীর RAOP নির্বাচনে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত ই এম এস সাগর, শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনের জোয়ার ২০২৭ থেকে বদলে যাচ্ছে পাঠ্যবই, যুক্ত হবে গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও এআই শিক্ষা ২২ বছর পর চাঁদপুর সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জনসভা ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ আবারও কমলো স্বর্ণের দাম, এক ভরিতে কমেছে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান সিনহা

২০২৭ থেকে বদলে যাচ্ছে পাঠ্যবই, যুক্ত হবে গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও এআই শিক্ষা

রিপোর্টার: / ১৭ পঠিত
আপডেট: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬

২০২৭ থেকে বদলে যাচ্ছে পাঠ্যবই, যুক্ত হবে গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও এআই শিক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে National Curriculum and Textbook Board (এনসিটিবি)। দীর্ঘদিনের ইতিহাস বিকৃতি সংশোধন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস অন্তর্ভুক্তি, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং আনন্দমুখর পাঠদান নিশ্চিত করতে নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে দেশের শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক।

জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে Md. Mahbubul Haque Patwari জানান, নতুন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী পাঠ্যবই পরিমার্জন এবং যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, অতীতে পাঠ্যপুস্তকে ইতিহাসের যে বিচ্যুতি ও একপেশে উপস্থাপন ছিল, এবার তা বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে সংশোধন করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের বীরদের প্রকৃত অবদান এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো যথাযথভাবে পাঠ্যবইয়ে স্থান পাবে।

Md. Mahbubul Haque Patwari বলেন, ‘৯০-এর গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের সঠিক ও বিস্তারিত ইতিহাস পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতিহাসের একপেশে স্বীকৃতি সংশোধন করে প্রকৃত সত্য তুলে ধরা হবে।’

এনসিটিবি চেয়ারম্যান জানান, মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনের অংশ হিসেবে গত ৪ থেকে ৭ মে পর্যন্ত বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে চার দিনব্যাপী নিবিড় আবাসিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি প্রাথমিক স্তরের বই পরিমার্জনের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে।

তিনি জানান, মাধ্যমিক পর্যায়ের ৯৭টি এবং প্রাথমিক পর্যায়ের ৩৬টি বই পরিমার্জনে দেশের প্রায় ৩২০ জন বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন University of Dhaka-সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষক এবং অভিজ্ঞ স্কুলশিক্ষকরা।

মাধ্যমিকের বই পরিমার্জনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন প্রাথমিকের বই নিয়ে কাজ চলছে। আগামী জুলাইয়ের মধ্যেই সব কাজ শেষ করে মুদ্রণের প্রস্তুতি নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

National Curriculum and Textbook Board সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ইংরেজি ভার্সনসহ মোট ৬০১টি পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন করা হবে। লক্ষ্য হলো ২০২৭ সালের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে নির্ভুল, আধুনিক ও বিচ্যুতিমুক্ত পাঠ্যবই তুলে দেওয়া।

শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ এবং পড়াশোনাকে আরও আনন্দদায়ক করতে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন তিনটি বৈচিত্র্যময় বই যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির জন্য ‘খেলাধুলা ও সংস্কৃতি’ বিষয়ক বই তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে শিশুদের শারীরিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করতে সাত ধরনের গেমস অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে নতুন বই চালু করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে শেখার সুযোগ পায়। পর্যায়ক্রমে এটি অন্যান্য শ্রেণিতেও সম্প্রসারণ করা হবে।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ষষ্ঠ শ্রেণিতে টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষা (টিভিই) বিষয়ে একটি উদ্দীপনামূলক বইও যুক্ত করা হচ্ছে।

আইসিটি বইয়ের ব্যাপক পরিবর্তনের কথাও জানিয়েছেন Md. Mahbubul Haque Patwari। তিনি বলেন, ‘বর্তমান আইসিটি বইগুলো অনেকটাই পুরোনো হয়ে গেছে। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বইগুলো প্রায় নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, নতুন শিক্ষাক্রমের মূল দর্শন হবে ‘অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষা’। এতে বইয়ের সংখ্যা কমবে এবং ব্যবহারিক শিক্ষার পরিধি বাড়বে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি জানান, ২০২৭ সালে পাঠ্যবই পরিমার্জনের কাজ শেষ হলেও ২০২৮ শিক্ষাবর্ষে আরও বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সেটি একটি পূর্ণাঙ্গ নতুন কারিকুলামও হতে পারে।

অভিভাবকদের উদ্দেশে Md. Mahbubul Haque Patwari বলেন, ‘আমরা বর্তমানে ২০১২ সালের কারিকুলাম অনুসরণ করছি। আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষার্থীরা যখন আনন্দের সঙ্গে শিখবে, তখন অভিভাবকরাও এটি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবেন।’

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ২০২৭ সালের জানুয়ারির প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীরা ইতিহাসের বিচ্যুতিমুক্ত, নির্ভুল এবং আধুনিক পাঠ্যপুস্তক হাতে পাবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ