
কুমিল্লা বিভাগ দাবিতে ইতিবাচক প্রধানমন্ত্রীর বার্তা, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েরও আশ্বাস
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লাকে বিভাগ করার দীর্ঘদিনের দাবির পক্ষে ইতিবাচক অবস্থান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman। কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে আয়োজিত এক পথসভায় বিএনপি নেতাকর্মীদের জোরালো দাবির মুখে তিনি বলেন, “এই দাবিটি যদি জনগণের দাবি হয়ে থাকে, ইনশাল্লাহ সেটি বাস্তবায়ন হবে।”
শনিবার (১৬ মে) দুপুরে অনুষ্ঠিত ওই পথসভায় কুমিল্লা বিভাগ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে বারবার স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী জানান, কুমিল্লায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়েও দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে।
Tarique Rahman বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “বিএনপি জনগণের কাছে যে ওয়াদা দেয়, সরকারে এলে সেই ওয়াদা পূরণ করে।”
বক্তব্যে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী কার্যক্রম বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
দেশ গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে Tarique Rahman বলেন, “জনগণই দেশের মালিক। মালিক যখন দায়িত্ব নেয়, তখনই দেশ এগিয়ে যায়।”
সভায় কৃষিমন্ত্রী Amin Ur Rashid Yasin কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণার দাবি উত্থাপন করেন। একই সঙ্গে কুমিল্লায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
পরে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী Zakaria Taher Suman কুমিল্লা সদর হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানান।
পথসভাকে ঘিরে সকাল থেকেই বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সমাবেশস্থলে আসতে থাকেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman বলেন, গত ১৬ থেকে ১৭ বছরে দেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। তিনি দাবি করেন, “২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই স্লোগান সামনে রেখেই সরকার কাজ করছে। নারীদের স্বাবলম্বী করা, বেকারত্ব কমানো এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি শক্তিশালী করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বরুড়ার পথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুর সফরে যান। সেখানে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন এবং ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।