
রাজশাহীর সমাবেশে বিএনপিকে নিয়ে কড়া মন্তব্য জামায়াত আমিরের, উত্তপ্ত রাজনৈতিক মাঠ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীতে বিভাগীয় সমাবেশে বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তীব্র সমালোচনা করেছেন Shafiqur Rahman। শনিবার (১৬ মে) ঐতিহাসিক মাদরাসা ময়দানে আয়োজিত ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দুর্নীতি, প্রশাসনিক প্রভাব এবং পানি সংকটসহ নানা ইস্যুতে বক্তব্য দেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, পদ্মা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা এবং জনদুর্ভোগ কমানোর দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। সমাবেশকে ঘিরে দিনভর রাজশাহী নগরীতে রাজনৈতিক উত্তাপ লক্ষ্য করা যায়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে Shafiqur Rahman বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “আপনাদের নাম ছিল জাতীয়তাবাদী দল, এখন মানুষ বলে চাঁদাবাজি দল।” তার অভিযোগ, দেশে চাঁদাবাজি ও দখলবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণে সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “দুর্নীতিকে টুঁটি চেপে ধরার কথা ছিল, কিন্তু বাস্তবে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে।” রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন খাতে অযোগ্য ব্যক্তিদের বসানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, এর ফলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মান ও কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
Bangladesh Bank-সহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাবের অভিযোগ তোলেন জামায়াত আমির। একই সঙ্গে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, এ কারণে উচ্চশিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার মান ক্ষতির মুখে পড়ছে।
সমাবেশে পদ্মা নদীর পানি সংকট প্রসঙ্গেও কথা বলেন Shafiqur Rahman। তিনি বলেন, নদীগুলোর নাব্যতা কমে যাওয়া এবং পানির ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত না হওয়ায় দেশের কৃষি ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, “এই দেশ ২০ কোটি মানুষের। সবাইকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।” জনগণের অধিকার আন্দোলন ও সংগ্রামের মাধ্যমেই আদায় করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীরা বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক দাবিতে স্লোগান দেন। ১১ দলীয় জোটের নেতারা সরকারের নীতি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনামূলক বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন Rafiqul Islam Khan, যিনি জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রাজশাহী অঞ্চল পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।