
নিজস্ব প্রতিবেদক:
মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে টানটান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের ওপর সম্ভাব্য মার্কিন হামলা স্থগিতের ঘোষণায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যায়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলার থেকে নেমে প্রায় ১০৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ছিল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ জোরদারের ঘটনায় বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়। কারণ বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেন, “ইরানকে দ্রুত এগোতে হবে, নইলে তাদের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।” ওই মন্তব্যের পরপরই তেলের বাজারে দাম বাড়তে শুরু করে এবং সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়।
তবে পরে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করে, আলোচনার স্বার্থে ইরানের অপরিশোধিত তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক ছাড় দিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এরপরই বাজারে উত্তেজনা কিছুটা কমে আসে।
পরবর্তীতে ট্রাম্প জানান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের অনুরোধে পরিকল্পিত হামলা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “খুবই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে” এবং একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তির দিকে অগ্রগতি হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না।
হামলা স্থগিতের ঘোষণার পর শুধু তেলের বাজারেই নয়, বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। মার্কিন শেয়ার সূচক ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। পাশাপাশি ডলারের সূচক কমেছে এবং ইউরোপীয় বাজারেও ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস মিলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হলেও আপাতত যুদ্ধ শঙ্কা কিছুটা কমায় বিশ্ববাজারে স্বস্তি ফিরেছে। তবে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে জ্বালানি বাজারে আবারও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।