
চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাতের প্রস্তুতি সম্পন্ন, অংশ নেবেন হাজারো মুসল্লি
চট্টগ্রাম, মঙ্গলবার: পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নগরের প্রধান ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) উদ্যোগে জমিয়তুল ফালাহ ঈদগাহ ময়দানে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ঈদগাহ ময়দান পরিদর্শন শেষে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, প্রায় ৬৫ হাজার বর্গফুট এলাকাজুড়ে নির্মিত বিশাল প্যান্ডেলে কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মুসল্লিদের নির্বিঘ্নে নামাজ আদায়ের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য বৃষ্টিপাতের কথা বিবেচনায় রেখে প্যান্ডেলের ওপর টারপলিন স্থাপন করা হয়েছে এবং পুরো ময়দানে কার্পেট বিছানো হয়েছে, যাতে যেকোনো আবহাওয়াতেও জামাতে বিঘ্ন না ঘটে।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, ঈদগাহে ১৪০টি সিলিং ফ্যান ও ৬০টি স্ট্যান্ড ফ্যান স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, ৭০টি মাইক এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৩০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
মেয়র জানান, এবারের কেন্দ্রীয় জামাতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মুসল্লির অংশগ্রহণের আশা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে দুটি জামাতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রথম ও প্রধান জামাত সকাল ৭টায় এবং দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও জানান, আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে নামাজ আদায়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।
প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের খতিব হযরতুল আল্লামা আলহাজ্ব সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন আলকাদেরী এবং দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করবেন সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আহমদুল হক।
এছাড়া চসিকের তত্ত্বাবধানে নগরের আরও ৯টি মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
মসজিদগুলো হলো— লালদীঘি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন শাহী জামে মসজিদ, হযরত শেখ ফরিদ (রা.) চশমা ঈদগাহ মসজিদ, সুগন্ধা আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, চকবাজার সিটি কর্পোরেশন জামে মসজিদ, জহুর হকার্স মার্কেট জামে মসজিদ, দক্ষিণ খুলশী (ভিআইপি) আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, আরেফীন নগর কেন্দ্রীয় কবরস্থান জামে মসজিদ, সাগরিকা গরুর বাজার জামে মসজিদ এবং মা আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) চসিক জামে মসজিদ।
মেয়র নগরবাসীকে যথাসময়ে নির্ধারিত ঈদ জামাতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং কোরবানির আত্মত্যাগের শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর নগর গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার অনুরোধ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, জনসংযোগ ও প্রটোকল কর্মকর্তা আজিজ আহমদ, নির্বাহী প্রকৌশলী ফখরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।