• শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
কবি আল মুজাহিদীর মৃত্যুতে বিএফইউজে-ডিইউজের শোক, শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রথম জানাজা কবি আল মুজাহিদীর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক: ‘সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হলো’ ছয় মাসে পাঁচ অঞ্চলে চালু হচ্ছে ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জোর প্রস্তুতি রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান বাংলাদেশের একনেকেই পাস হচ্ছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা, তিস্তাপারের মানুষের আর কোনো চিন্তা নেই: পানি সম্পদ মন্ত্রী এ্যানি শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগই জাতি গঠনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শেষ মুহূর্তে ভেস্তে গেল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি বৈঠক, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন শঙ্কা জনগণের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা, সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ বলাদের বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মূলধারার রাজনীতি ও ব্যবসায় আরও সক্রিয় হোন’—যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি ড. তিতুমীরের আহ্বান

ছয় মাসে পাঁচ অঞ্চলে চালু হচ্ছে ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জোর প্রস্তুতি

রিপোর্টার: / ১১ পঠিত
আপডেট: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

ছয় মাসে পাঁচ অঞ্চলে চালু হচ্ছে ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জোর প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ছয় মাসের মধ্যে খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ এবং কুমিল্লা জেলায় একটি করে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এর মধ্যে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের হাসপাতাল দুটি আগামী আগস্টের প্রথম সপ্তাহেই উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিটি হাসপাতালে আধুনিক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং) এবং ভবিষ্যতে সেবার পরিধি বাড়ানোর সুযোগ রাখা হবে। পাশাপাশি বড় পরিসরে আইসিইউ ইউনিট সম্প্রসারণেরও পরিকল্পনা রয়েছে।

হাসপাতালগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ের দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিটি হাসপাতালে প্রায় ১ হাজার ৪৭৫ জন জনবল প্রয়োজন হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ইতোমধ্যে খুলনা, বরিশাল ও কুমিল্লায় নির্মিত হাসপাতাল ভবনগুলো পরিদর্শন করেছেন। বরিশাল শিশু হাসপাতাল পরিদর্শনকালে তিনি আগামী ১ আগস্ট হাসপাতালটি উদ্বোধনের ঘোষণা দেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, নিউনেটাল ভেন্টিলেটর, সিটি স্ক্যান, এক্স-রে মেশিন, পোর্টেবল এক্স-রে, মাল্টি প্যারামিটার বা কার্ডিয়াক মনিটর এবং ফটোথেরাপি মেশিনসহ ২০০ শয্যার হাসপাতাল পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সকল চিকিৎসা সরঞ্জাম আগামী জুলাইয়ের মধ্যে সরবরাহ করা হবে।

এর আগে গত ১০ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে দেশের বিভিন্ন বিভাগে নির্মিত হলেও দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকা শিশু হাসপাতালগুলো দ্রুত চালুর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরেজমিনে পরিদর্শন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ারও নির্দেশনা দেন। এরপর থেকেই হাসপাতালগুলো চালুর কার্যক্রমে গতি আসে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের পাঁচ অঞ্চলে একটি করে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করা হচ্ছে। প্রতিটি হাসপাতাল হবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং সেখানে আধুনিক আইসিইউ সুবিধা থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, পাঁচটি হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় ফার্নিচার ও চিকিৎসা যন্ত্রপাতির টেন্ডার ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে পূর্ণ জনবল নিয়োগের বিষয়েও সরকার কাজ করছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বরিশাল শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, প্রথম ধাপে হাসপাতালটির জরুরি বিভাগের কার্যক্রম শুরু করা হবে।

খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল চালুর কাজও জোরেশোরে এগিয়ে চলছে। গত ২০ মে হাসপাতালটি পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আগামী ছয় মাসের মধ্যে এটি চালুর আশাবাদ ব্যক্ত করেন। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

কুমিল্লার সদর দক্ষিণের বেলতলী এলাকায় নির্মিত শিশু হাসপাতালটিও আগামী ছয় মাসের মধ্যে চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে হাসপাতালটির জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতির চাহিদাপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘ ছয় বছর অব্যবহৃত পড়ে থাকা বিশেষায়িত রংপুর শিশু হাসপাতালও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চালু হতে যাচ্ছে। হাসপাতালটির অবকাঠামো ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. নাজমুল হোসেন পরিদর্শন করেছেন।

তিনি বলেন, “শুধু এই পাঁচটি শিশু হাসপাতাল নয়, স্বাস্থ্য খাতে এ ধরনের আরও অনেক অবকাঠামো রয়েছে, যেগুলো এখনও চালু হয়নি। প্রধানমন্ত্রী সেগুলোও দ্রুত চালুর নির্দেশ দিয়েছেন।”

এদিকে রাজশাহী শিশু হাসপাতালও আগামী তিন মাসের মধ্যে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস হাসপাতালটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব জানান, প্রথম ধাপে রাজশাহী শিশু হাসপাতালে বহির্বিভাগ (আউটডোর) সেবা চালু করা হবে। পরবর্তী অর্থবছরে ধাপে ধাপে অন্যান্য চিকিৎসাসেবাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ ও শিশুদের বিশেষায়িত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারের এই উদ্যোগ দেশের স্বাস্থ্য খাতে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ