• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনকে ডা. জুবাইদার আহ্বান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস নীলগঞ্জের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা, হাজিপুরে মতবিনিময়ে অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন যুদ্ধের কারণে আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারবেন বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান, সার কারখানা স্থাপনেও সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ তোমাদের মধ্যেই দেখি নতুন বাংলাদেশ, নতুন স্বপ্ন’—শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি কলাপাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমজীবী নুরুল ইসলাম ফকিরের মৃত্যু কলাপাড়ায় তুচ্ছ ঘটনায় পিতা ও পুত্রকে পিটিয়ে আহত ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলো প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে ৬৪ জেলায় সমন্বিত কর্মসূচির আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের

বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা

রিপোর্টার: / ৯৩ পঠিত
আপডেট: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬

বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে কৌশলগত সহযোগিতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বা অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা যাচাইয়ে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও তুরস্ক।

শুক্রবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের সহযোগিতা আরও গভীর করার ক্ষেত্রে যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের ভিত্তিতেই অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হচ্ছে। এই নীতি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।

তিনি আরও বলেন, উভয় দেশ একমত হয়েছে যে, এই সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

আলোচনায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা ছিল অন্যতম প্রধান বিষয়। ড. খলিলুর রহমান জানান, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও গতিশীল করতে বাংলাদেশ ও তুরস্ক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) অথবা অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, হাকান ফিদানের এই সফর দুই দেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া, সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং নতুন নতুন খাতে যৌথ কাজের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী চলতি বছরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানো এবং নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে প্রতিনিধি পাঠানোর জন্য তুরস্ককে ধন্যবাদ জানান। একইসঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতায় সমর্থন দেওয়ার জন্য তুরস্ক সরকার ও ব্যক্তিগতভাবে হাকান ফিদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ তুরস্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। প্রতিরক্ষা শিল্প, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

তিনি বাংলাদেশকে ‘গ্লোবাল সাউথের শক্তিশালী কণ্ঠস্বর’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মতৈক্য রয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে হাকান ফিদান বাংলাদেশের প্রশংসা করে বলেন, মানবিক বিবেচনায় ১০ লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছে। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে তুরস্ক তার সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে তুরস্ক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে এবং স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করবে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি গাজায় চলমান সংঘাত বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান এবং আঞ্চলিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে কূটনীতি ও সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে ফিদান বলেন, এই আলোচনা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা জোরদারে সহায়ক হবে। পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক নৌপথে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ