• বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
শাহজালাল বিমানবন্দরে গার্মেন্টস ফেব্রিকের আড়ালে ১,৬৫৫টি দামি মোবাইল ফোন জব্দ পরিবেশদূষণ রোধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, পলিথিন ব্যবহারে জিরো টলারেন্স তিব্বতে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত, নেপালেও অনুভূত কম্পন ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে যমজ দুই বোনের কারাদণ্ড ও নিরাপত্তা ঘটনায় এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে বৃটেন-ইসরাইল সম্পর্ক: বসতি বাণিজ্য নিয়ে তীব্র উত্তেজনা সাংস্কৃতিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে কাতার ও উজবেকিস্তানের পাঁচ বছর মেয়াদী চুক্তি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, ১০০ ডলারের দোরগোড়ায় ব্রেন্ট ক্রুড মার্কিন বাজারে বোম্বার্ডিয়ারের বিমান বিক্রি বন্ধের হুমকি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ডিএমপির চার সহকারী পুলিশ কমিশনারের কর্মস্থল পরিবর্তন চ্যাম্পিয়নস লিগে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু রিয়াল মাদ্রিদের, এমবাপ্পের মাইলফলক

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে যমজ দুই বোনের কারাদণ্ড ও নিরাপত্তা ঘটনায়

রিপোর্টার: / ১ পঠিত
আপডেট: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইরানে গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার ২০ বছর বয়সী যমজ বোন তারানেহ রাহিমি ও রোমিনা রাহিমিকে কারাগারে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইসফাহানের দৌলতাবাদ কারাগারে চার মাস নিখোঁজ থাকার পর পরিবারের সদস্যরা তাদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান। পরিবারের ভাষ্যমতে, দীর্ঘ সময় পর মেয়েদের দেখে তাদের মা মারজিয়েহ নুরমোহাম্মাদি প্রথমে তাদের চিনতেই পারেননি।

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত তাদের চাচাতো ভাই মাসুদ নুরমোহাম্মাদির দাবি, কারাগারে দেখা করার সময় দুই বোনের মুখমণ্ডল ছিল ফোলা, শরীরে মারধরের স্পষ্ট চিহ্ন ছিল এবং তাদের মাথার বড় একটি অংশ ছিঁড়ে ফেলা হয়েছিল। পরিবারের অভিযোগ, তারানেহকে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করার জন্য তার বোন রোমিনাকে যৌন নির্যাতনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। চাপের মুখে তারানেহ এমন একটি স্বীকারোক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন, যা পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে মামলায় ব্যবহার করা হয়।

তারানেহের শারীরিক অবস্থা নিয়ে পরিবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তার চাচাতো ভাই জানান, তারানেহের পায়ে আগে একটি অস্ত্রোপচার হয়েছিল, যেখানে ধাতব প্লেট ও স্ক্রু বসানো ছিল। কারাগারে নির্যাতনের ফলে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। পরিবারের দাবি, কারাগারের একজন চিকিৎসক তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিলেও কর্তৃপক্ষ কোনো চিকিৎসার ব্যবস্থা করেনি।

ইসফাহানের বিক্ষোভে ১৬ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় এই দুই বোনকেও আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ‘মোহরাবেহ’ বা ‘সৃষ্টিকর্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ’সহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া বিক্ষোভের সময় একটি জুতার দোকানের কাছে মলোটভ ককটেল তৈরির অভিযোগও তাদের ওপর চাপানো হয়েছে। যদিও পরিবার এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে যে, আদালতে তাদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

বিচারিক প্রক্রিয়ার সবশেষ ধাপে তারানেহকে মৃত্যুদণ্ড এবং রোমিনাকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পরিবারের আইনজীবীরা মামলার নথি পর্যালোচনা করে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পাশাপাশি নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে আইনজীবীদের করা আবেদন এখনো ইসফাহানের আদালতে আলোর মুখ দেখেনি। বর্তমানে পরিবার তাদের সাজা বাতিল ও পুনর্বিচারের দাবি জানিয়ে আসছে। এই ঘটনা ইরানে বিক্ষোভকারীদের বিচারপ্রক্রিয়া, জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় এবং মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহারের বিষয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কেন্দ্রীয় ইরানের ইসফাহানে জানুয়ারির বিক্ষোভকে ঘিরে ১৬ জনের বিরুদ্ধে হওয়া মামলায় দুই বোনকেও আসামি করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর মুখোশধারী নিরাপত্তা সদস্যরা তাদের আলাদা অভিযানে আটক করে নিয়ে যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাতেরও অভিযোগ করেছেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আইনজীবীদের বরাত দিয়ে পরিবার আরও বলেছে, স্বীকারোক্তিগুলো নির্যাতনের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চলতি বছরের জানুয়ারিতেও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সতর্ক করেছিল, বিক্ষোভে আটক অনেক মানুষ নির্যাতন, যৌন সহিংসতা এবং অন্যায্য বিচারের ঝুঁকিতে রয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ