• বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, ১০০ ডলারের দোরগোড়ায় ব্রেন্ট ক্রুড মার্কিন বাজারে বোম্বার্ডিয়ারের বিমান বিক্রি বন্ধের হুমকি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ডিএমপির চার সহকারী পুলিশ কমিশনারের কর্মস্থল পরিবর্তন চ্যাম্পিয়নস লিগে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু রিয়াল মাদ্রিদের, এমবাপ্পের মাইলফলক নেপালে বন্যায় নিখোঁজের ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার নারী ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, জর্ডানে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতায় কাতারের মধ্যস্থতায় পূর্ণ সমর্থন চীনের ২০২৬-৩১ অর্থবছরের মধ্যে সব মাদ্রাসায় মিড-ডে মিল চালুর পরিকল্পনা সরকারের দুদকের অভিযোগের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দুই যুগ আগের মামলায় ১০৪ বছর বয়সে কারাগারে বৃদ্ধ

নেপালে বন্যায় নিখোঁজের ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার নারী

রিপোর্টার: / ৯ পঠিত
আপডেট: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় নিখোঁজ হওয়ার ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৬৪ বছর বয়সী চন্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। চন্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠা নামের ওই নারীকে মৃত ভেবে তাঁর পরিবার শোক পালনের জন্য ১১ দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছিল। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে ধ্বংস হয়ে যাওয়া চারতলা বাড়ির ভেতর থেকে জীবিত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে নেপালের নুওয়াকোট জেলার বেত্রাবতীতে। গত ২৬ আগস্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও কাদাধসে এলাকাটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চারতলা বাড়িটি বন্যার স্রোতে ভেসে গিয়ে কাদা ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। গত ৫ সেপ্টেম্বর উদ্ধারকাজ চালানোর সময় পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের কাছে একটি ক্ষীণ কণ্ঠ শুনতে পান। পুলিশ কর্মকর্তা মহেন্দ্র দারনালের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁরা শুনতে পান কেউ সাহায্যের জন্য ডাকছেন। এরপর প্রায় ৪৫ মিনিটের অভিযানে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে চন্দিকাকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারের পর তাঁকে দ্রুত নেপালি সেনাবাহিনীর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী জানিয়েছে, তাঁকে চারতলা একটি ভবনের ওপরের অংশের একটি সংকীর্ণ জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার অভিযানে নয় সদস্যের একটি দল অংশ নেয়। চন্দিকা ২৬ আগস্ট থেকে নিখোঁজ ছিলেন। ওই সময় বন্যার স্রোতে ভোতেকোশি নদী অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকা তছনছ হয়ে যায়। বহু বাড়িঘর, দোকানপাট ও সড়ক কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছিল।

বেত্রাবতী ছিল বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। স্থানীয় বাজারসহ বহু আবাসিক ভবন কয়েক ফুট পুরু কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে। চন্দিকাকে উদ্ধারের পাঁচ দিন আগে বেত্রাবতীর বাজার এলাকার একটি ভবন থেকে ২৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে থাকায় মরদেহগুলোর অনেকগুলোই পচে গিয়েছিল।

তবু চন্দিকার উদ্ধার নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। নেপালের বিভিন্ন এলাকায় এখনো ধ্বংসস্তূপ, কাদার স্তর ও বিভিন্ন স্থাপনার ভেতরে আটকে থাকা মানুষকে খুঁজছেন উদ্ধারকারীরা। ভয়াবহ এই দুর্যোগের ১১ দিন পরও প্রায় ৫ হাজার মানুষ নিখোঁজ ছিলেন বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নেপালজুড়ে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে।

ত্রিশূলী নদীর আশপাশেও উদ্ধার অভিযান চলছে। সেখানে কয়েকটি সুড়ঙ্গের মধ্যে বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সেখান থেকে নেপালি নাগরিকদের উদ্ধার করা হয়েছে। চন্দিকার মতো আরও কয়েকজনকে অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। আট বছর বয়সী এক শিশুকেও উদ্ধার করে তার মায়ের সঙ্গে পুনর্মিলন করানো হয়েছে। এসব ঘটনায় উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবনের কোনো ক্ষীণ চিহ্ন পেলেই অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।

নেপালের সাম্প্রতিক এই দুর্যোগের সূত্রপাত ঘটে হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট ভয়াবহ পানির স্রোত থেকে। ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদী অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকায় এর প্রভাব পড়ে। চন্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠার উদ্ধার সেই বিপর্যয়ের মধ্যেও মানুষের বেঁচে থাকার এক বিরল উদাহরণ হয়ে উঠেছে। পরিবারের সদস্যরা যখন তাঁকে হারিয়ে শোক পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন তাঁর ক্ষীণ কণ্ঠই শেষ পর্যন্ত উদ্ধারকারীদের কাছে পৌঁছে দেয় তাঁর জীবিত থাকার খবর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ অবস্থায় উদ্ধারকাজে জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই কমে আসছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সূত্র: রয়টার্স, কাঠমান্ডু পোস্ট। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেখানেই একটি ছোট বাতাসের জায়গার মধ্যে কোনোভাবে বেঁচে ছিলেন চন্দিকা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চন্দিকার পরিবারও তাঁকে আর জীবিত নেই বলেই ধরে নিয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ধ্বংসস্তূপের ফাঁকে কেউ আটকে থাকলে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নিয়মিত বাঁশি বাজানো হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আবার কিছু এলাকায় পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এমন মরদেহের গণদাফনও করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ