• সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘে প্রথম ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী, সফরে সঙ্গী ৩৫ সদস্য বাংলাদেশে ১৫ বছর পূর্তি উদযাপনে তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের হাফ ম্যারাথন ডিসেম্বরেই জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনীর চূড়ান্ত প্রতিবেদন নতুন তথ্য: লাহোরে ইমরান খানের বোন আলিমা গ্রেপ্তার ন্যাম ভবনে সংসদ সদস্যের স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু কাতারে চাকরির নতুন বিজ্ঞপ্তি ও সতর্কতা: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সৌদিকে সামরিক সহায়তার প্রস্তাব তুরস্কের: মক্কা চুক্তি সক্রিয় এমিরেটস ও ফ্লাইদুবাইয়ে যাত্রীদের জন্য দ্বিগুণ মাইল জয়ের সুযোগ জানুয়ারিতে হতে পারে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: ইসি মাছউদ ৩৪ লাখ শিশুকে হামের টিকা দিতে বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু

জাতিসংঘে প্রথম ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী, সফরে সঙ্গী ৩৫ সদস্য

রিপোর্টার: / ১০ পঠিত
আপডেট: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে চার মন্ত্রীসহ ৩৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে সোমবার রাতে নিউইয়র্কের পথে রওনা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক পর্বে তিনি বাংলায় ভাষণ দেবেন। এর মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকারের প্রধান হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি।

রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বর্তমানে সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের তালিকায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং দুজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা ত্যাগ করবেন এবং ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। সফরের প্রথম দিন তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য আয়োজিত প্রাতঃরাশে অংশ নেবেন এবং সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এছাড়া সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানেও তার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেবেন এবং বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা বিষয়ক সভায় বক্তব্য দেবেন। একই দিনে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় অংশ নেবেন। এছাড়া রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত একটি বিশেষ সাইড ইভেন্টে তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহায়তার আহ্বান জানাবেন।

২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি বিষয়ক সভায় প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনী ভাষণ দেবেন। সেখানে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশের অবস্থান, অর্থায়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে তুলে ধরবেন। এদিন বিকেলে তিনি সাধারণ বিতর্কে তার মূল ভাষণ দেবেন। এতে দেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন, বিশ্ব শান্তি, নিরাপত্তা, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলোতে বাংলাদেশ সরকারের সুচিন্তিত বার্তা ফুটে উঠবে।

এছাড়া এদিন তিনি মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক একটি সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন, যেখানে তিনি দক্ষ ধাত্রীসেবা ও মা-শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করবেন।

সফরকালে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ভুটান, ক্রোয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রধানসহ মানবাধিকার ও শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারদের সঙ্গেও তার বৈঠকের সূচি রয়েছে। এছাড়া অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে ওয়াল স্ট্রিট ও মেটার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে আলোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী।

পররাষ্ট্রসচিব জানান, এই সফরের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে নতুন সরকারের ইতিবাচক ভাবমূর্তি, বহুপাক্ষিক সহযোগিতা এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলে ধরার লক্ষ্য রয়েছে। নিউইয়র্কের ব্যস্ত কর্মসূচি শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে প্রধানমন্ত্রী দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। চাকরির আরও তথ্য: এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। চাকরির আরও তথ্য: এসব আলোচনায় বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, উৎপাদন, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনা, দক্ষতা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং তরুণদের জন্য মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই সঙ্গে বিশ্বকে একটি গণতান্ত্রিক, আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল, শান্তিপ্রিয় ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের বার্তা দিতে চায় সরকার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ