• রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৫ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :

৩৪ লাখ শিশুকে হামের টিকা দিতে বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু

রিপোর্টার: / ৬ পঠিত
আপডেট: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দেশের শিশুদের স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় সরকার এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। হামের টিকা থেকে বঞ্চিত এবং নতুন করে টিকার বয়সে উপনীত প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে টিকাদানের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে এই বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ২০ সেপ্টেম্বর, রবিবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় সারা দেশে একযোগে এই বিশেষ টিকাদান কার্যক্রমের সূচনা হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশে বর্তমানে হামের টিকার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। হাতে থাকা মজুদ এবং নতুন পাওয়া ডোজ মিলিয়ে মোট প্রায় ৫৮ লাখ ডোজ টিকা এখন স্বাস্থ্য বিভাগের হাতে রয়েছে। টিকাদানের ক্ষেত্রে অপচয় বা সিস্টেম লস হিসাব করার পরেও প্রায় ৫২ লাখ ডোজ টিকা উদ্বৃত্ত থাকবে, যার বিপরীতে এই বিশেষ কার্যক্রমে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩৪ লাখ ডোজ টিকার প্রয়োজন হবে। মন্ত্রী আরও জানান, কার্যক্রম শুরুর দিন যে সব শিশুর বয়স ছয় মাস পূর্ণ হবে না, তাদের আপাতত এই টিকার আওতায় আনা সম্ভব নয়। টিকাদান প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে তদারকির জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দেশের বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্রে উপস্থিত থাকবেন।

৩৪ লাখ শিশুর লক্ষ্যমাত্রা কীভাবে নির্ধারিত হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পূর্বে পরিচালিত ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনে প্রায় ২ কোটি ২৩ লাখ শিশুর তথ্যের ভিত্তিতে এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশের বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়েও আলোকপাত করেন। তিনি জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টব, বাড়ির আশপাশের খানাখন্দ বা যেকোনো স্থানে যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা অপরিহার্য।

ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াবহতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়েই যেন ডেঙ্গু রোগীদের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়, সে লক্ষ্যে স্যালাইন, জ্বরের ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া প্লাজমা লিকেজ পর্যবেক্ষণসহ ডেঙ্গু রোগীর অবস্থা নিবিড় পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে তৈরি করা হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে এবং রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা ও বড় শহরগুলোতে মোবাইল হাসপাতাল প্রস্তুত রাখার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী পুনরায় আশ্বস্ত করেন যে, বর্তমানে সরকারি মজুতে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধের মজুদ রয়েছে। হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিশুদের এই রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে টিকাদান কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়াই সংক্রমণের ঝুঁকি কমানোর একমাত্র কার্যকর উপায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শুধু নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে আসার অপেক্ষায় না থেকে গ্রাম ও প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে টিকার আওতায় আনা হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একটি শিশুও যেন টিকাবিহীন না থাকে, সে লক্ষ্যেই এবার কার্যক্রমটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যুক্ত থাকবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে ভিটামিন এ দেওয়ার পর আরো প্রায় ৪৩ লাখ শিশু বাদ থাকার তথ্য পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে আরো ১৯ লাখ শিশুকে ভিটামিন এ দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অবশিষ্ট ২৪ লাখ শিশুর সঙ্গে ছয় মাস বয়স পূর্ণ করা নতুন প্রায় ১০ লাখ শিশুকে যোগ করে ৩৪ লাখের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ