
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তিনি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন, যা পরিবারের চার দশকের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ইতিহাসে এক নতুন সংযোজন।
তারেক রহমানের এই সফরের প্রস্তুতি হিসেবে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর তিনি ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। এই অধিবেশনটি বাংলাদেশের জন্য বাড়তি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
উল্লেখ্য, জিয়া পরিবারের আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার সূচনা হয়েছিল ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট, যখন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন। সেই বিশেষ অধিবেশনে তিনি ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যকার ক্রমবর্ধমান বৈষম্য, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি শান্তি, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি পারস্পরিক দায়িত্বশীল বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাষণের তেরো বছর পর ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর প্রথমবার সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার মা প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া। পরবর্তীতে ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি মোট পাঁচবার জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এর মধ্যে ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্মারক সভা, ২০০২ সালে শিশুবিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন এবং ২০০৫ সালে ৬০তম অধিবেশনের বিভিন্ন সভায় তিনি বক্তব্য দেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তনের ইস্যুটিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। বাংলাদেশ এই বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজস্ব অবস্থান ও অগ্রাধিকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের ভাষ্যমতে, বিশ্বনেতাদের সামনে বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষণে দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। এছাড়া চলমান রোহিঙ্গা সংকট নিরসন ও টেকসই সমাধানের বিষয়টি এই সফরে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হবে।
১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমানের ভাষণের মধ্য দিয়ে যে কূটনৈতিক ধারার সূত্রপাত হয়েছিল, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণে তা সমৃদ্ধ হয়েছিল। এখন ২০২৬ সালে তারেক রহমানের প্রথম ভাষণের মধ্য দিয়ে সেই দীর্ঘ ধারায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উন্নয়নে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও দারিদ্র্য ও ক্ষুধা কেন অব্যাহত রয়েছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই ভাষণের ঠিক ১৩ বছর পর ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ছাড়াও বাংলাদেশের জন্য এবারের ৮১তম অধিবেশনটি বাড়তি তাৎপর্য বহন করছে।