• শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৮ অপরাহ্ন

অক্টোবরে ৬৪ জেলায় সারের শতভাগ বরাদ্দ নিশ্চিত করল সরকার

রিপোর্টার: / ১ পঠিত
আপডেট: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
কৃষকের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে আগামী অক্টোবর মাসের জন্য সারা দেশে প্রয়োজনীয় সারের শতভাগ বরাদ্দ নিশ্চিত করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। রবি ও বোরো মৌসুমকে সামনে রেখে নেওয়া হয়েছে আগাম প্রস্তুতি ও সমন্বিত পরিকল্পনা।

কৃষকের চাহিদাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সার ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আসন্ন অক্টোবর মাসের জন্য দেশের ৬৪টি জেলায় প্রয়োজনীয় সারের শতভাগ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে। মূলত রবি ও বোরো মৌসুমের সম্ভাব্য চাহিদা মাথায় রেখে সার আমদানি, মজুত, পরিবহন এবং মাঠপর্যায়ে কঠোর মনিটরিংয়ের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিশাখার গত ১৪ সেপ্টেম্বরের বরাদ্দপত্র ও সংযুক্ত সারণি থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। সরকারি তথ্যমতে, অক্টোবর মাসে ৬৪ জেলায় মোট ৩ লাখ ১৪ হাজার ৬১৬ মেট্রিক টন নন-ইউরিয়া সারের চাহিদা রয়েছে, যার বিপরীতে সমপরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে টিএসপি সার ৭০ হাজার ৫২ মেট্রিক টন, ডিএপি ১ লাখ ৫০ হাজার ৯১০ মেট্রিক টন এবং এমওপি সারের চাহিদা ৯৩ হাজার ৬৫৪ মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে।

বরাদ্দকৃত সারের মধ্যে টিএসপির পুরো ৭০ হাজার ৫২ মেট্রিক টনই বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে। ডিএপি সারের ১ লাখ ৫০ হাজার ৯১০ মেট্রিক টনের মধ্যে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ১ হাজার টন এবং বিএডিসি ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯১০ মেট্রিক টন বরাদ্দ করেছে। এমওপি সারের ৯৩ হাজার ৬৫৪ মেট্রিক টনও জেলাওয়ারি বিভাজন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দেওয়া হয়েছে।

বরাদ্দ বিশ্লেষণে দেখা যায়, কৃষি উৎপাদনের চাহিদা অনুযায়ী জেলাগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সার সরবরাহ করা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, টিএসপি সারের ক্ষেত্রে ময়মনসিংহ জেলায় ১ হাজার ৯০০, কুষ্টিয়ায় ১ হাজার ৮৮২, মানিকগঞ্জে ১ হাজার ৬৮৪, নরসিংদীতে ১ হাজার ৪৮৭ এবং টাঙ্গাইলে ১ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন বরাদ্দ রাখা হয়েছে। একইভাবে বগুড়া, রাজশাহী, পাবনা, নাটোর, নওগাঁ ও রংপুরের মতো কৃষিনির্ভর অঞ্চলগুলোতে স্থানীয় চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

এমওপি সারের ক্ষেত্রেও বড় বড় কৃষি অঞ্চলগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বগুড়ায় ৪ হাজার ৫৪০ মেট্রিক টন, রাজশাহীতে ৩ হাজার ৯৬০ মেট্রিক টন, পাবনায় ২ হাজার ৪৮৩ মেট্রিক টন, নওগাঁয় ২ হাজার ২৬৯ মেট্রিক টন, নাটোরে ১ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন এবং ময়মনসিংহে ১ হাজার ৯৩০ মেট্রিক টন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডিএপি সারের চাহিদাও বিএডিসি ও বিসিআইসির সমন্বয়ে নিশ্চিত করা হচ্ছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের মাসভিত্তিক চাহিদার তথ্যানুযায়ী, নিরাপত্তা মজুত হিসেবে ইউরিয়া ৫ লাখ মেট্রিক টন, টিএসপি ৪ লাখ, ডিএপি ৫ লাখ এবং এমওপি ৩ লাখ মেট্রিক টন রাখার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। সারা দেশে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার আমদানি জোরদার করেছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে, যার মধ্যে বেলারুশ থেকে ৩০ হাজার টন এমওপি, মরক্কো থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি এবং সৌদি আরব থেকে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া রয়েছে। আগস্ট মাসেও ৩ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে ইউরিয়া ৪ লাখ ১৮ হাজার টন, টিএসপি ৩ লাখ ৪৩ হাজার টন, ডিএপি ৩ লাখ ২ হাজার টন এবং এমওপি ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯০০ টন সার মজুত ছিল। পাশাপাশি বড় পরিমাণের সার পরিবহনের পথে রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম জানান, চাহিদাভিত্তিক পরিকল্পনা ও আগাম প্রস্তুতি বর্তমান সরকারের সার ব্যবস্থাপনার মূল চাবিকাঠি। এলাকাভিত্তিক প্রয়োজনীয়তা এবং তা কৃষকের কাছে পৌঁছানোর বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে মনিটর করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বলেন, কৃষকের সংকটের সময়ে সারের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে শুরু থেকেই সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রকৃত চাহিদার ভিত্তিতে জেলাওয়ারি বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। অক্টোবর মাসের জন্য টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের শতভাগ বরাদ্দ নিশ্চিত করায় বর্তমান মৌসুমে সারের সংকট নিয়ে কৃষকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার অবকাশ নেই।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ডিলারদের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, বরাদ্দকৃত সার উপজেলা অনুযায়ী সমহারে উপ-বরাদ্দ দিতে হবে। প্রতিটি ডিলারকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা জমা দিয়ে সার উত্তোলন এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে তা কৃষকের কাছে বিক্রি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী, নন-ইউরিয়া সারের মাসিক বরাদ্দ পরবর্তী মাসের জন্য প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে সম্পন্ন করার নিয়ম রয়েছে, যা মেনেই এই বরাদ্দ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: টিএসপি সারের ক্ষেত্রে ঢাকায় ৭৪০ মেট্রিক টন, নারায়ণগঞ্জে ৮৪০ মেট্রিক টন, মুন্সীগঞ্জে ৮৯৬ মেট্রিক টন, মানিকগঞ্জে ১ হাজার ৬৮৪ মেট্রিক টন, নরসিংদীতে ১ হাজার ৪৮৭ মেট্রিক টন, টাঙ্গাইলে ১ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন, ময়মনসিংহে ১ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন এবং কুষ্টিয়ায় ১ হাজার। 740, 840, 896, 1, 684, 487, 450, 900, 882. প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বগুড়ায় ৪ হাজার ৫৪০ মেট্রিক টন, পাবনায় ২ হাজার ৪৮৩ মেট্রিক টন, নওগাঁয় ২ হাজার ২৬৯ মেট্রিক টন, নাটোরে ১ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন, রাজশাহীতে ৩ হাজার ৩৬০ মেট্রিক টন এবং ময়মনসিংহে ১ হাজার ৯৩০ মেট্রিক টন এমওপি সার বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অর্থাৎ ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ থেকে শুরু করে পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা এবং পার্বত্য তিন জেলাসহ কোনো জেলাকেই কেন্দ্রীয় বরাদ্দের বাইরে রাখা হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জেলাওয়ারি বরাদ্দে কৃষিপ্রধান জেলাগুলোর জন্য তুলনামূলক বড় পরিমাণ সার বরাদ্দের চিত্রও পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরকারি হিসাবে রবি ও বোরো মৌসুমে সারের মোট চাহিদা ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার মেট্রিক টন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর বিপরীতে প্রস্তুত সরবরাহ রয়েছে ৫১ লাখ ৭১ হাজার মেট্রিক টন, যা চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৫ লাখ ৮৪ হাজার মেট্রিক টন বেশি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই সময়ে পরিবহনের পথে ছিল টিএসপি ১ লাখ ২৮ হাজার ২০০ টন, ডিএপি ১ লাখ ১৪ হাজার ৬০০ টন এবং এমওপি ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪০০ টন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ৬৪ জেলায় সার মনিটরিং সেল গঠনের উদ্যোগের কথাও সরকারি তথ্যের বরাতে জানানো হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ