• শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ন

ঔপনিবেশিক শাসনামলে আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে সভ্যতার বিলোপ

রিপোর্টার: / ১ পঠিত
আপডেট: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ঔপনিবেশিক ইতিহাস, ভাষা এবং শিক্ষার রাজনীতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইউরোপীয় দখলদারিত্বের সূচনালগ্নে স্থানীয় জনগোষ্ঠী কীভাবে চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। ক্যারিবীয় অঞ্চলে কলম্বাসের আগমনের পর স্থানীয় আরাওয়াকদের ওপর স্বর্ণ সংগ্রহের এক অসম্ভব চাপ সৃষ্টি করা হয়। ওই অঞ্চলে স্বর্ণের উৎস না থাকায় আরাওয়াকরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়, কিন্তু স্পেনীয়রা শিকারী কুকুর লেলিয়ে দিয়ে তাদের ধৃত করে নির্মমভাবে হত্যা করত।

প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গিয়ে স্থানীয়রা উন্নত অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত স্পেনীয়দের কাছে পরাস্ত হয়। বন্দি আরাওয়াকদের প্রকাশ্যে ফাঁসি বা আগুনে পুড়িয়ে মারার মতো নিষ্ঠুরতা ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। এমনকি নিজেদের শিশুদের এই নিষ্ঠুর পরিণতি থেকে রক্ষা করতে অভিভাবকরা তাদের প্রাণ কেড়ে নিতে শুরু করেন। হাইতির আড়াই লক্ষ জনসংখ্যার অর্ধেকই দুই বছরের মধ্যে এই হত্যা, আত্মহত্যা ও অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ হারায়। পরবর্তীতে বেঁচে থাকা আরাওয়াকদের ইউরোপীয় খামারে শ্রমদাসে রূপান্তর করা হয়। ঐতিহাসিক হাওয়ার্ড জিনের তথ্যমতে, ১৫১৫ সালে হাইতিতে মাত্র ৫০ হাজার আরাওয়াক বেঁচে ছিলেন, ১৫৫০ সালে সেই সংখ্যা নেমে আসে ৫০০ জনে এবং ১৬৫০ সালের মধ্যে ওই অঞ্চলে তাদের অস্তিত্ব সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যায়।

স্পেনীয় আগ্রাসনের ঢেউ কেবল ক্যারিবীয় অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ ছিল না, এটি দক্ষিণ আমেরিকার তিনটি উন্নত সভ্যতা—আজটেক, মায়া ও ইনকাকে সমূলে ধ্বংস করে দেয়। ১৫১৯ সালের এপ্রিলে হেরনেন কোর্তেজ ৫০০ সৈন্য নিয়ে ভেরাক্রুজে অবতরণ করলে আজটেক সম্রাট দ্বিতীয় মোকটেজুমা কোনো সামরিক সংঘাত না চেয়ে তাদের উপহার দিয়ে স্বাগত জানান। কিন্তু সেই আতিথেয়তার প্রতিদান হিসেবে কোর্তেজের বাহিনী মন্দির ও পিরামিড ধ্বংস করে স্থানীয় অভিজাতদের বন্দি করে। সেখানে খ্রিস্টধর্মের প্রতীক স্থাপন করে বিজয় ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী সময়ে পেড্রো দ্য আলভারডোর সহায়তায় ১৫২১ সালে আজটেক সাম্রাজ্য পুরোপুরি স্পেনীয়দের দখলে চলে যায়।

মায়া সভ্যতার ওপরও একইভাবে প্রায় ৩০ বছর ধরে আক্রমণ ও লুণ্ঠন চালানো হয়। শেষ পর্যন্ত ১৫৪৭ সালে ফ্রান্সিসকো ড্য মনটেজো ও তার সহযোগীরা মেক্সিকো, গুয়েতেমালা, বেলিজ ও হন্ডুরাসসহ বিস্তীর্ণ মায়া অঞ্চল দখল করে নেয়। ইনকা সাম্রাজ্যের পতনও ছিল প্রতারণার এক করুণ দলিল। পিজারোর বাহিনী ১৫৩২ সালের দিকে ইনকা সম্রাট আতাহুয়ালপাকে কাজামারকা নগরে কৌশলে বন্দি করে এবং ঈশ্বরের দূত হওয়ার মিথ্যা পরিচয় দিয়ে পুরো সাম্রাজ্য কব্জা করে ফেলে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইতিহাস, ভাষা ও শিক্ষার ঔপনিবেশিক রাজনীতি ৪। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে, আরাওয়াকরা নিজেদের অঞ্চল ছেড়ে পালাতে থাকে, পলায়নরত অবস্থায় শিকারী কুকুর দিয়ে তাড়া করে তাদের ধরে আনা হতে থাকে, আর এভাবে ধৃত আরওয়াকদের হত্যা করা হতে থাকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এহেন নিপীড়নমূলক পরিস্থিতিতে সংঘবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে উঠতে বাধ্য। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এমতাবস্থায়, স্পেনীয়দের হাতে নির্মমভাবে মৃত্যুবরণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য, আরাওয়াকরা কাসাভা বিষপানে গণহারে আত্মহত্যা শুরু করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাছাড়া, তাদের শিশুদের নির্মম হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচানোর জন্য নিজেরাই তাদের সহজভাবে হত্যা করতে শুরু করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এভাবে, ‘হত্যা, আত্মহত্যা ও অঙ্গছেদের মাধ্যমে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ভেতর দিয়ে, পরবর্তী দু’বছরের মধ্যে, আড়াই লক্ষ জনসংখ্যা অধ্যুষিত হাইতির অর্ধেক মানুষই মৃত্যুর মুখে পতিত হয়’।১৫। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কলম্বাসের দল এক সময় অনুধাবন করে যে, ওই অঞ্চলে স্বর্ণের আর অবশিষ্ট নেই।

তথ্যসূত্র ও প্রমাণকসমূহ

  1. প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা: ৫
  2. Billy Wellman, The Spanish Conquest of the Americas, 2023, p. 27
  3. প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা: ২৯
  4. প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা: ৫৯
  5. প্রাগুক্ত
  6. প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা: ৭১


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ