• মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৮ অপরাহ্ন

ইন্টারনেটের চড়া দাম ও বিনিয়োগে বাধা

রিপোর্টার: / ৪ পঠিত
আপডেট: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সাশ্রয়ী ও মানসম্মত ইন্টারনেট সেবার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি)-এর একচেটিয়া আধিপত্য। আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ অবকাঠামোয় প্রতিষ্ঠানটির এই মনোপলি বাজারের স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা ও গ্রাহকসেবার মানকে ব্যাহত করছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া কনভেনশন হলে আয়োজিত ‘সবার জন্য সাশ্রয়ী ইন্টারনেট ও টেক জায়ান্টদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ: বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক সেমিনারে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞরা। টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি মাসুদুজ্জামান রবিনের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মেটাকোর সাবকম লিমিটেডের প্রকল্প প্রধান মাহমুদ শাহেদ এবং আইএসপিএবির কোষাধ্যক্ষ মইন উদ্দিন আহমেদ। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন টিআরএনবির সাবেক সভাপতি সমীর কুমার দে।

সেমিনারে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বিএসসিপিএলসি তাদের দুটি সাবমেরিন ক্যাবল সি-মি-উই-৪ ও সি-মি-উই-৫-এ মোট ৮১৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছে। ২০০৮ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ এই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে এবং নিট মুনাফা ১ হাজার ৩৬২ কোটি টাকার বেশি। তা সত্ত্বেও বাজারে প্রতিযোগিতার অভাব থাকায় গ্রাহকরা এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ জিবিপিএস আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ ব্যবহৃত হচ্ছে। সেমিনারের বিশ্লেষণে বলা হয়, ২০০৬ সালে বিটিসিএল প্রতি এমবিপিএস ব্যান্ডউইথ ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি করলেও বিএসসিপিএলসি আসার পর পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন ঘটে। ২০১৬ সালে সেই দাম নেমে আসে ৫০০ টাকায় এবং বর্তমানে তা ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন, বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল চালু হয়ে প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরি হলে ২০২৭ সাল নাগাদ এই খরচ ৬০ থেকে ৭০ টাকায় নেমে আসা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে মেটাকোর সাবকম লিমিটেডের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল হাকিম বলেন, বিএসসিপিএলসির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বহাল রেখে সাশ্রয়ী ইন্টারনেট নিশ্চিত করা অসম্ভব। তিনি ব্যান্ডউইথ বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি ও বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টির ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে ল্যান্ডিং স্টেশনে উন্মুক্ত ও বৈষম্যহীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। সেমিনারে উপস্থিত বক্তারা আরও জানান, গুগল, মেটা, আকামাই ও ক্লাউডফ্লেয়ারের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এখনো প্রতিকূল পরিবেশের সম্মুখীন হচ্ছে। ডিজিটাল অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাব এবং নীতিমালার জটিলতায় হাইপারস্কেলাররা এখানে আসতে বাধা পাচ্ছে।

বক্তব্য প্রদানের সময় সিডিনেট কমিউনিকেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মশিউর রহমান এবং বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম বজলুর রহমান বর্তমান ইন্টারনেট খাতের সংকট ও তা উত্তরণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সেমিনারের শেষ পর্যায়ে বক্তারা একমত পোষণ করেন যে, বিএসসিপিএলসির মনোপলি ভেঙে একটি স্থিতিশীল, পূর্বাভাসযোগ্য ও প্রযুক্তি-নিরপেক্ষ নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরি। এ পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা গেলে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক ডিজিটাল অবকাঠামো হাবে পরিণত হতে পারবে। ল্যান্ডিং স্টেশনে বেসরকারি বিনিয়োগ সহজতর করলেই কেবল গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেটের দাম কমানো এবং মানোন্নয়ন সম্ভব হবে বলে সেমিনারে দাবি করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ অবকাঠামোয় বিএসসিপিএলসির এই একাধিপত্যের কারণে বাজারে কোনও প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হচ্ছে না, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ব্যান্ডউইথের মূল্য, ইন্টারনেটের গুণগত মান এবং শেষ পর্যন্ত গ্রাহক পর্যায়ের দামের ওপর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আলোচনায় জানানো হয়, দেশে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের ব্যবহার বাড়লেও বিএসসিপিএলসির মনোপলির কারণে একাধিক সাবমেরিন ক্যাবল ও বিকল্প আন্তর্জাতিক রুটের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ব্যান্ডউইথ বিক্রি শুরুর ১০ বছর পর ২০১৬ সালে একই পরিমাণ ব্যান্ডউইথ বিক্রি হয় ৫০০ টাকায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গুগল, মেটা, আকামাই ও ক্লাউডফ্লেয়ারের মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সেবা ও অবকাঠামোর সঙ্গে এই আন্তর্জাতিক সংযোগের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ