• শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে ভারতজুড়ে উত্তাল বিক্ষোভ বোয়িং থেকে বিমান কেনায় বাংলাদেশ-তুরস্ক নিয়ে ট্রাম্পের উচ্ছ্বাস অনলাইনে হ্যাকিং ও প্রতারণা রুখতে মেনে চলুন ৬টি জরুরি অ্যালকোহল পরীক্ষায় ব্যর্থ এয়ার ইন্ডিয়ার ফার্স্ট অফিসার, সাময়িক বরখাস্ত শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হলো কবি আখতার হুসেনকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত: ডিএমপি যুগ্ম কমিশনার সৌদির ইয়ানবু বন্দর রক্ষায় সেনা পাঠাবে ফ্রান্স জাতিসংঘে তারেক রহমান: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিই গড়বে আগামী বিশ্বের মহেশখালীতে এলএনজি স্থানান্তর শুরু, কাটছে গ্যাস সংকট হরমুজ প্রণালি খুলতে যুদ্ধবিরতি ও সম্পদ মুক্তির শর্ত ইরানের

অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে চালু হতে যাচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

রিপোর্টার: / ২১ পঠিত
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে গৃহীত প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষের দিকে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক কার্যক্রম উদ্বোধনের প্রস্তুতি চলছে। বেবিচকের সদস্য (এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) এয়ার কমোডর মো. নূর-ই-আলম জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে ইতিমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং তারা সে অনুযায়ী নিজেদের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিমানবন্দরের বর্তমান অবকাঠামোগত পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কক্সবাজার বিমানবন্দরের পরিচালক গোলাম মুর্তজা হোসেন। বেবিচক চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছে। বেবিচকের সর্বশেষ তথ্যমতে, আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনাল নির্মাণের ৯৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের ৯১ দশমিক ৬৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। যদিও প্রকল্প দুটির মেয়াদ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারিত, তবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় সব অবকাঠামো এখন ব্যবহারের উপযোগী।

প্রকল্পের আওতায় রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৯ হাজার ফুট থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুটে উন্নীত করা হয়েছে। সমুদ্র থেকে প্রায় ৪৩ হেক্টর জমি পুনরুদ্ধার করে এই কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন হয়েছে। এই দীর্ঘ রানওয়েতে বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর ও বোয়িং ৭৪৭-৪০০-এর মতো বড় আকারের উড়োজাহাজ অনায়াসে ওঠানামা করতে পারবে বলে বেবিচক দাবি করেছে। এর ফলে কক্সবাজারের আকাশপথে যোগাযোগ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।

১৭ হাজার ৯৫৬ বর্গমিটার আয়তনের নতুন আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনালে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। এখানে ৪৫০ জন যাত্রীর জন্য প্রশস্ত প্রস্থান লাউঞ্জ, বোর্ডিং ব্রিজ, লিফট, এস্কেলেটর, চেক-ইন কাউন্টার, ইমিগ্রেশন সুবিধা ও লাগেজ বেল্টের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া ৩৬ হাজার ৩০০ বর্গমিটারের অ্যাপ্রোনে দুটি বড় উড়োজাহাজসহ মোট পাঁচটি উড়োজাহাজ পার্কিংয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে দুটি ট্যাক্সিওয়ে চালু হলেও গাড়ির পার্কিংয়ের কিছু কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।

বর্তমানে বিমানবন্দরটি প্রতিদিন গড়ে ২৮ থেকে ৩০টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ওঠানামা পরিচালনা করছে। তবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর বিষয়টি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম জানান, আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো আগ্রহ দেখা যায়নি। তিনি মনে করেন, বিমানবন্দর নির্মাণের আগেই সম্ভাব্য ব্যবহারকারীদের সঙ্গে আলোচনা ও তাদের চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন ছিল। তবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস এখানে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার আগ্রহ ব্যক্ত করেছিল বলে জানা গেছে।

পর্যটন শিল্পের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কেবল অবকাঠামো তৈরি করলেই আন্তর্জাতিক যাত্রী পাওয়া সম্ভব নয়। কক্সবাজারকে বিশ্বমানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে জোরালো বিপণন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের সমন্বয় প্রয়োজন। এদিকে, বিমানবন্দরের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম আরও সুসংহত করতে বেবিচক দ্বিতীয় পর্যায়ের পরামর্শক ও নকশা প্রকল্পের কাজও সমানতালে এগিয়ে নিচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ছাড়া ৩৬ হাজার ৩০০ বর্গমিটারের অ্যাপ্রোনে দুটি বড় উড়োজাহাজ ও তিনটি ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিছু শেষ মুহূর্তের কাজ ছাড়া বড় ধরনের নির্মাণকাজ বাকি নেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ