
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে নতুন করে ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। এই বাণিজ্যিক সমঝোতার পরপরই নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক বার্তায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় দেওয়া সেই পোস্টে তিনি এই চুক্তিকে বোয়িং ও আমেরিকান উৎপাদন খাতের জন্য একটি বড় দিন হিসেবে অভিহিত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি উড়োজাহাজ কেনাবেচার এই চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের দেশীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের জন্যও এক বিশাল সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন।
মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক এবং বাণিজ্য বিভাগের সমন্বয়ে এই উদ্যোগ সফল হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি জানান, বাংলাদেশ ও তুরস্কের সঙ্গে সম্পাদিত এই চুক্তির আওতায় মোট ১১১টি বোয়িং বিমান কেনার ঘোষণা এসেছে। পাশাপাশি আরও ৫০টি উড়োজাহাজ কেনার একটি সুযোগ বা অপশনও রাখা হয়েছে। বিশাল অংকের এই বাণিজ্যিক লেনদেন যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি বৃদ্ধিতে এবং দেশজুড়ে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, এই হাজার হাজার কোটি ডলারের বিশাল বিক্রি ও বিপুল পরিমাণ মার্কিন রপ্তানি দেশজুড়ে আমাদের হাজার হাজার মার্কিনির কর্মসংস্থান তৈরিতে সহায়তা করবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও বলেন, মার্কিন পণ্য উৎপাদন, রপ্তানি এবং দেশীয় শ্রমিকদের উৎসাহিত করা হলে কোম্পানিগুলো আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তিনি বোয়িং ও এর কর্মীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বোয়িং এবং আমি যা শুরু থেকেই জানতাম, বর্তমান বাজার সেটিই প্রমাণ করছে। মার্কিন মাটিতে তৈরি পণ্য ও শ্রমশক্তির ওপর ভরসা রাখাই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
উল্লেখ্য যে, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন চলাকালীন বাংলাদেশ বিমান এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বোয়িংয়ের কাছ থেকে পাঁচটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ মডেলের নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহ করবে। বোয়িংয়ের এই বড় ধরনের বিক্রয় চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।