• রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
প্রত্যাহার হলেন শাহ আলী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে ভারত সফরের সম্ভাবনা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাতারে মুরগি ও কৃষিপণ্যে নতুন আমদানি শুল্ক ঘোষণা নিয়োগপত্র পাননি আড়াই হাজার প্রাথমিক শিক্ষক: ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা ইরানের ফ্লাইট বিধিনিষেধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাগদাদের আলোচনা সামুদ্রিক খাতের আধুনিকায়নে গুরুত্বারোপ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া নিয়ে সরকারের অস্তিত্বে নাহিদের প্রশ্ন সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর নির্যাতিত মুসলিম সমাজের পাশে থাকার ঘোষণা: এরদোয়ান সূচকের উত্থানেও ডিএসইতে কমলো বাজার মূলধন

নিয়োগপত্র পাননি আড়াই হাজার প্রাথমিক শিক্ষক: ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা

রিপোর্টার: / ৬ পঠিত
আপডেট: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের একটি প্ল্যাটফর্মের তথ্যমতে, এই সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। তবে অন্য একটি হিসাব অনুযায়ী, নিয়োগ বঞ্চিত প্রার্থীর সংখ্যা দুই হাজার দুইশ জনেরও বেশি। নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অস্পষ্টতা এবং প্রশাসনিক ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ার কারণ নিয়ে প্রার্থীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অন্য একটি হিসাব অনুযায়ী, এ সংখ্যা ২ হাজার ২০০-এর বেশি। একই সঙ্গে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত অথচ নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ এবং পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এমন পরিস্থিতির কারণ জনসমক্ষে ব্যাখ্যার দাবি জানিয়েছেন তারা। এসব জেলার তথ্য যোগ করলে সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৫১।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুসন্ধানে জানা গেছে, মূলত চারটি কারণে প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পুলিশ বা গোয়েন্দা সংস্থার নেতিবাচক প্রতিবেদন, ডোপ টেস্টে অকৃতকার্য হওয়া, স্বাস্থ্য সনদ দাখিলে ব্যর্থতা এবং শিক্ষা সনদে গরমিল। এর মধ্যে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন নেতিবাচক হওয়ার হারই সবচেয়ে বেশি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

নিয়োগ বঞ্চিত প্রার্থীদের সংগঠনটি এখন পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরছে। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রত্যেক প্রার্থীর নথি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে পুনরায় যাচাই করা। এছাড়া তথ্যগত অসংগতির শিকার প্রার্থীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ও প্রশাসনিক আপিলের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। কোনো প্রশাসনিক ত্রুটি বা দাপ্তরিক ভুলের কারণে কেউ বাদ পড়ে থাকলে তা সংশোধন করে অবিলম্বে নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য কারণ নেই, তাদের ক্ষেত্রে পুনর্যাচাই এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ চান।

এদিকে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নিয়োগপত্র নিয়ে ছড়ানো বিভ্রান্তি নিরসনে সতর্ক করেছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, ভেরিফিকেশন বা ভেটিং নিয়োগ প্রক্রিয়ার একটি স্বাভাবিক অংশ। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১ অক্টোবর পর্যন্ত যদি কোনো উত্তীর্ণ প্রার্থী নিয়োগপত্র না পান, তবে পরবর্তী সময়ে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে তাদের নিয়োগপত্র পাঠানো হবে। সরকারি কর্মকর্তা নিয়োগে এই ধরনের যাচাই-বাছাই নিয়মিত প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখা হয় বলে তারা মন্তব্য করেছে।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়োগপত্র বিতরণ শুরু হওয়ার পরপরই মূলত এই জটিলতা প্রকাশ্যে আসে। বিভিন্ন জেলার প্রার্থীরা অভিযোগ করছেন, চূড়ান্ত ফলাফলে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও নিয়োগপত্র তাদের হাতে পৌঁছায়নি। প্রার্থীদের দেওয়া খসড়া তালিকা অনুযায়ী, সুনামগঞ্জে ১২০ জন, বগুড়ায় ৪৮ জন, পাবনায় ৩৫ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৪ জন, মানিকগঞ্জে ২২ জন, চাঁদপুরে ২৭ জন, রাজবাড়ীতে ১৫ জন, কুষ্টিয়ায় ১৬ জন, ফরিদপুরে ১২ জন, ঝালকাঠিতে ১২ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৭ জন, শরীয়তপুরে ৬ জন, মুন্সীগঞ্জে ৩ জন, সাতক্ষীরায় ২ জন এবং লক্ষ্মীপুরে ২ জন নিয়োগপত্র পাননি। তবে এটি কোনো পূর্ণাঙ্গ সরকারি হিসাব নয়।

নিয়োগ না পেয়ে বিভিন্ন জেলার প্রার্থীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। এর মধ্যে খুলনায় সুপারিশ পাওয়া ২৭৫ জনের মধ্যে ১৯৬ জন নিয়োগপত্র পেলেও ৬৯ জন বঞ্চিত হয়েছেন। একইভাবে সুনামগঞ্জে ১২০ জন, মৌলভীবাজারে ৬৭ জন এবং যশোরে ২৯০ জনের মধ্যে ১০৬ জন নিয়োগ পাননি বলে জানা গেছে। এছাড়া নাটোরে প্রতিবন্ধী প্রার্থীসহ ৩৪ জন চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও নিয়োগ বঞ্চিত হয়েছেন। সুনামগঞ্জে ৬১৭ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য সুপারিশ পাঠানো হলেও সর্বশেষ যাচাইয়ে ১২০ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে। মৌলভীবাজারে ৩৪৭ সুপারিশপ্রাপ্তের মধ্যে ৬৭ জন এবং যশোরে ২৯০ জনের মধ্যে ১০৬ জন নিয়োগপত্র পাননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্মরণ করা যেতে পারে, গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, যাতে উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। পরবর্তীতে ৮ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করে, যেখানে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। খুলনায় ২৭৫ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হলেও ২৬৫ জন কাগজপত্র জমা দেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর লিখিত পরীক্ষা গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচিত শিক্ষকদের কর্মস্থলে যোগদানের জন্য ১ অক্টোবর এবং পদায়নের জন্য ৪ অক্টোবরকে গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও কেন এত বড় একটি অংশ নিয়োগপত্র থেকে বঞ্চিত হলো এবং ভেরিফিকেশনে তাদের বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের তথ্য এসেছে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। প্রার্থীরা এখন স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দ্রুত নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ