• সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৯:০৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
তিন বছর মেয়াদি নতুন সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে বাংলাদেশ-আইএমএফের সমঝোতা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী বিদায়ী হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা ঈদ উপলক্ষে হিলি স্থলবন্দরে ৭ দিন বন্ধ থাকছে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম জাতীয় ঈদগাহে ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজের প্রস্তুতি, থাকছে কড়া নিরাপত্তা ও আধুনিক সুবিধা কালিহাতীতে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত ১৫, ধানকাটা শ্রমিকদের বাড়িতে শোকের মাতম ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে নজরুল ছিলেন প্রধান প্রেরণা: রিজভী ঈদযাত্রায় নৌপথে কড়া নিরাপত্তা, দক্ষিণাঞ্চলে কোস্ট গার্ডের বিশেষ টহল জোরদার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এডিবি প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা ঈদযাত্রায় কমলাপুরে যাত্রীদের ঢল, ট্রেন বিলম্বে ভোগান্তি চরমে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায়, প্রস্তুতি সম্পন্নের পথে ডিএসসিসি

ঘোড়াঘাট  স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তদন্তে আংশিক সত্যতা মিলেছে/দৈনিক ক্রাইম বাংলা।। 

রিপোর্টার: / ২২২ পঠিত
আপডেট: সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

মাহতাব উদ্দন আল মাহমুদ,ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ 

ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ করেন না দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক রফিকুল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, ঘুষ, দুর্নীতি, হয়রানির লিখিত অভিযোগ করেছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স মিড ওয়াইফরা। দাপ্তরিক কোনো কাজ নিয়ে তার অফিস কক্ষের চৌকাঠ পেরুলেই গুনতে হতো টাকা। কেউ টাকা না দিলে, সেই কাজ তিনি শুরুই করতেন না বলেও অভিযোগ করেন তারা।

১০ সেপ্টেম্বর প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষকের অপসারণের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছিলেন তারা। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. পার্থ জ্বিময় সরকারকে আহবায়ক এবং মেডিকেল অফিসার ডা. আহসান হাবীবকে সদস্য সচিব করে  সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টায় ছাত্র জনতার একটি প্রতিনিধি দল তার ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে কি না তা তদন্ত কমিটির কাছে জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান।

ভুক্তভোগী সিনিয়র স্টাফ নার্স জোহারা বেগম জানান, অফিসের অনেক কাজের জন্য বড় বাবুর (প্রধান সহকারী হিসাবরক্ষক রফিকুল ইসলাম) কাছে আমাদের যেতে হয়। আর যে কোন কাজের জন্য ওনি টাকা দাবি করেন। টাকা দিলে কাজ করতেন, না দিলে কাজ করতেন না। তিন বছর পরপর আমার শান্তি বিনোদনের জন্য টাকা পাই। 

সেই টাকার বাজেট আনার জন্য আগেও টাকা চেয়েছে এবং সেই টাকা নিয়ে আসার পর বিল যখন করা হবে তখনো তাকে টাকা দিতে হবে। আমরা এটা দিতে রাজি না হওয়াতে ওনি কাজ করবে না। এমনকি কাগজ ছুঁড়ে ফেলে দেন এবং বলেন, আপনারা আপনাদের কাজ করেন আমি করতে পারব না। তাকে যখন আমরা প্রশ্ন করি, তাহলে আপনার কাজ কি? তখন তিনি বলেন, টাকা দিলে কাজ করব, না হলে করব না।

ছুটির আবেদন করি। আর এই ছুটির আবেদন প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক  রফিকুল ইসলামের মাধ্যমে করতে হয়। আমি যখন তার কাছে যায় তখন তিনি টাকা দাবি করে বসেন। আমি তখন তাকে টাকাও দেই কিন্তু তিনি আমার কাজে টাকা নিয়েও করে দেননি। আমার মত কম বেশি সবাই তার দ্বারা ভুক্তভোগী।

ছাত্রজনতার পক্ষ থেকে তারেক রেজা বলেন, ছাত্রজনতার পক্ষ থেকে আমরা এখানে এসেছি। ঘুষ খোর, অসৎ দুর্নীতিবাজ এই কর্মচারীর বিরুদ্ধে কি সিন্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা জানতে এসেছি। এই প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক রফিকুল ইসলাম এর আগে যে স্টেশনে কর্মরত ছিলেন সেখানেও তিনি ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। যার শাস্তি স্বরূপ এখানে বদলি করা হয়েছিল। এখানে এসেও তিনি একই কাজে লিপ্ত হয়েছেন। আমরা জানতে চাই, একজন ঘুষ খোরের শাস্তি কি শুধু মাত্র বদলি?

বিষয়ে মুঠোফোনে প্রধান হিসাবরক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, আমি ছুটিতে আছি। আমার উপর আনিত অভিযোগ মিথ্যা। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। আশেপাশে খোঁজ নেন আমি কেমন। শুধু মাত্র তারাই আমার বিরুদ্ধে। আমাকে সরাতে পারলেই তাদের ভালো। গোটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দাপ্তরিক কাজ আমি নিজে একলা হাতে করি। কই অন্য কেউ তো আমার নামে কোন অভিযোগ করলো না। আমার হয়ত এখন বদলি হবে। অন্যত্র আমাকে চলে যেতে হবে।

তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ডা. আহসান হাবীব বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য পপ কর্মকর্তা ডা. সালাউদ্দীন আহমেদ খান স্যারের নির্দেশে চার সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি করা হয় এবং তদন্তে আংশিক সত্যতা মিলেছে। আমরা আমাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত আকারে অবহিত করেছি।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ