
চলতি বছর আর কোনো স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাবনা দেখছেন না স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচন কমিশন আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে এসব নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। রমজান মাস, এসএসসি পরীক্ষা এবং ডিসেম্বরের বার্ষিক পরীক্ষার মতো বিষয়গুলোকে বিবেচনায় নিয়ে কমিশন সম্ভাব্য এই সময়সীমা ঠিক করেছে, কারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
প্রতিমন্ত্রী জানান, নির্বাচন কমিশন এর আগে কোনো আলোচনা ছাড়াই তারিখ ঘোষণা করেছিল, যা নিয়ে পরবর্তীতে সচিব পর্যায়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়েছে। সেই আলোচনার প্রেক্ষিতেই বর্তমান সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে। তবে ভোট শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ এবং নির্বাচনের চূড়ান্ত ব্যয় কত হবে, তা কমিশন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারকে জানায়নি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, নির্বাচনের সূচি নির্ধারণের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের, সরকার সেখানে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। সরকার শুধু চায়, বর্তমান অর্থবছরের মধ্যেই যেন নির্বাচনগুলো সুষ্ঠুভাবে শেষ হয়।
নির্বাচনে সম্ভাব্য ব্যয়ের বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, কমিশন এর আগে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার একটি প্রাথমিক হিসাব দিয়েছিল। মন্ত্রণালয় এই বাজেট বরাদ্দের ব্যবস্থা রেখেছে, তবে বাস্তবে খরচ কম-বেশি হতে পারে। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রায় ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং উপজেলা নির্বাচনে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। এছাড়া ৩৩০টি পৌরসভা এবং ১৩টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ক্ষেত্রে খরচের পরিমাণ তুলনামূলক কম হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে নির্বাচনের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানিমন্ত্রী এ বিষয়ে আগেই বক্তব্য দিয়েছেন। নির্বাচন যেহেতু আরও বাকি আছে এবং দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তাই জনগণের প্রতিক্রিয়া বা প্রভাব সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত কিছু বলা সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের নিয়ে যে বৈঠক হয়েছে, সেই পরামর্শের ভিত্তিতেই কমিশন তাদের সিদ্ধান্ত এগিয়ে নিচ্ছে। নির্বাচন পরিচালনার মূল দায়িত্বে থাকা কমিশন প্রয়োজনে আবারও স্টেকহোল্ডারদের সাথে বসতে পারে বলে তিনি জানান।
সবশেষে প্রতিমন্ত্রী পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন শুরুর তারিখ নির্ধারণের বিষয়টি পুরোপুরি কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো তারিখ নির্ধারণ করে দেওয়াটা কমিশনের জন্য বিব্রতকর হতে পারে। তবে সচিব পর্যায়ে মিটিংয়ে সরকারের প্রতিনিধিরা নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এবং মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। অর্থ বরাদ্দও প্রস্তুত রয়েছে যাতে বর্তমান অর্থবছরের মধ্যে নির্বাচনগুলো সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তারা প্রথমে একটা তারিখ নির্ধারণ করে পরবর্তীতে বলেছে যে ৬ জুনের মধ্যে তারা নির্বাচনগুলো শেষ করতে চায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেখান থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা আবার গণমাধ্যমকে জানিয়েছে যে, ৬ জুনের মধ্যে নির্বাচন শুরু ও শেষ করা হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কবে নাগাদ হলে আপনাদের মিনিস্ট্রির জন্য সহযোগিতা করতে সুবিধা হবে- জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সচিবরা মিটিংয়ে গিয়ে যে পরামর্শ দিয়েছে, সেই পরামর্শের আলোকে নির্বাচন কমিশন তাদের বক্তব্য দিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আপনার প্রশ্নের উত্তর আমি ছোট করে বলতে চাই, নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই এ মুহূর্তে মানুষের প্রতিক্রিয়া কী—তা বলা কঠিন; নির্বাচনের সময় হলেই কেবল তা বোঝা যাবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এটা নির্বাচন কমিশনকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কারণ আমরা অর্থ বরাদ্দ রেখেছি এবং আমাদের সচিবরাও মিটিংয়ে গিয়ে বলে এসেছে তাদের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য।