• বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সহায়তা চাইলেন রাষ্ট্রপতি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে দেওয়া হবে না: চিফ হুইপ ইরাক থেকে চূড়ান্ত সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করল যুক্তরাষ্ট্র রূপপুর পারমাণবিক জ্বালানি: পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের ব্যাখ্যা মিরপুরে ফুটপাত উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে হকার-পুলিশ সংঘর্ষ ক্যালিফোর্নিয়ায় মার্কিন সংবাদমাধ্যম কর্মকর্তার মৃত্যুতে দম্পতি গ্রেপ্তার হুতি মোকাবিলায় সৌদি-আমিরাত সমঝোতার তোড়জোড় সৌদি যুবরাজ ও নেদারল্যান্ডসের রাজার সঙ্গে কাতারের আমিরের ফোনালাপ শাহজালাল বিমানবন্দরে ১৬ লাখ টাকার বিদেশি মদ জব্দ উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ নিয়ে কঠোর প্রধানমন্ত্রী

ইরাক থেকে চূড়ান্ত সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করল যুক্তরাষ্ট্র

রিপোর্টার: / ২ পঠিত
আপডেট: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দীর্ঘ দুই দশকের অস্থিরতা ও সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে ইরাক থেকে নিজেদের চূড়ান্ত সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে সমস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করার মাধ্যমে এই দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটানো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই জটিল ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়ন করেছে, যা মূলত ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তির অংশ ছিল। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ঐতিহাসিক যাত্রা

  • ২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের ক্ষমতার পতন ঘটে, যা দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার সূচনা করে।
  • ২০১১ সালের শেষভাগে মার্কিন বাহিনী প্রথম দফায় ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করলেও, পরবর্তীতে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) উত্থান পরিস্থিতি বদলে দেয়।
  • ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরাকি বাহিনীকে সহায়তার লক্ষ্যে মার্কিন বাহিনী পুনরায় দেশটিতে সক্রিয় হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন বাহিনীর এই প্রস্থান ইরাকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ইরান-সমর্থিত স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বৃদ্ধি এবং আইএস পুনরায় মাথাচাড়া দেওয়ার যে সম্ভাবনা রয়েছে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তেহরান এবং তাদের মিত্রদের কাছে মার্কিন এই বিদায় কৌশলগত ও রাজনৈতিক বড় জয় হিসেবে গণ্য হচ্ছে। অন্যদিকে, ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী মার্কিন প্রশিক্ষণের ওপর নির্ভরশীল ছিল, তাই তারা এককভাবে নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষার সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে ব্যাপক সংশয় রয়ে গেছে।

যুদ্ধে মার্কিন ক্ষয়ক্ষতির হিসাব

দুই দশকের এই দীর্ঘ সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের মানবিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরাক যুদ্ধ ও পরবর্তী সংশ্লিষ্ট অভিযানে অন্তত ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। চলতি বছরের উত্তপ্ত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির বিশেষ করে ইরানের সাথে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরাকে সাতজন মার্কিন সেনাসহ মোট ১৮ জন নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ গত জুলাই মাসে এরবিলের নিকটবর্তী একটি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে এক মার্কিন সার্জেন্ট নিহত হওয়ার ঘটনাটি ছিল এই দীর্ঘ অভিযানের চূড়ান্ত পর্যায়গুলোর একটি। সাধারণ ইরাকিদের কাছে এই প্রত্যাহার জনপ্রিয় হলেও, দেশটির ভঙ্গুর নিরাপত্তা কাঠামোর ভবিষ্যৎ এখন এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ