
দীর্ঘ দুই দশকের অস্থিরতা ও সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে ইরাক থেকে নিজেদের চূড়ান্ত সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে সমস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করার মাধ্যমে এই দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটানো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই জটিল ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়ন করেছে, যা মূলত ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তির অংশ ছিল। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন বাহিনীর এই প্রস্থান ইরাকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ইরান-সমর্থিত স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বৃদ্ধি এবং আইএস পুনরায় মাথাচাড়া দেওয়ার যে সম্ভাবনা রয়েছে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তেহরান এবং তাদের মিত্রদের কাছে মার্কিন এই বিদায় কৌশলগত ও রাজনৈতিক বড় জয় হিসেবে গণ্য হচ্ছে। অন্যদিকে, ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী মার্কিন প্রশিক্ষণের ওপর নির্ভরশীল ছিল, তাই তারা এককভাবে নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষার সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে ব্যাপক সংশয় রয়ে গেছে।
দুই দশকের এই দীর্ঘ সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের মানবিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরাক যুদ্ধ ও পরবর্তী সংশ্লিষ্ট অভিযানে অন্তত ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। চলতি বছরের উত্তপ্ত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির বিশেষ করে ইরানের সাথে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরাকে সাতজন মার্কিন সেনাসহ মোট ১৮ জন নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ গত জুলাই মাসে এরবিলের নিকটবর্তী একটি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে এক মার্কিন সার্জেন্ট নিহত হওয়ার ঘটনাটি ছিল এই দীর্ঘ অভিযানের চূড়ান্ত পর্যায়গুলোর একটি। সাধারণ ইরাকিদের কাছে এই প্রত্যাহার জনপ্রিয় হলেও, দেশটির ভঙ্গুর নিরাপত্তা কাঠামোর ভবিষ্যৎ এখন এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।