• বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
দিল্লিতে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার ১১ দেশের মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের জাইমা রহমান জাতিসংঘে নিজের যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছেন: মাহ্দী আমিন নতুন সামরিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ গঠন করলেন আমির ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়ল লিটারপ্রতি ৮ টাকা ৩৯ পয়সা বিমানবন্দরে অসুস্থ মা, মানবিকতায় পাশে দাঁড়ালেন আনসার সদস্যরা দুর্গাপূজায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশে হামের প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় ৪ শিশুর মৃত্যু নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা: গ্রেপ্তার মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন কাতারে স্বল্প আয়ের মানুষের সহায়তায় রফিক ও কাতার চ্যারিটির রাড্ডা সেন্টার ভাঙচুর: এমপি মিষ্টির সংশ্লিষ্টতা নিয়ে মুখ খুললেন

জাইমা রহমান জাতিসংঘে নিজের যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছেন: মাহ্দী আমিন

রিপোর্টার: / ১ পঠিত
আপডেট: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান জাতিসংঘে সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত মেধা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নিরপেক্ষ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পি-৩ পজিশনে নিযুক্ত হয়েছেন। বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দূরতম কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এমনকি জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনেও তার কোনো পদায়ন হয়নি। তিনি সরাসরি জাতিসংঘের সদরদপ্তরে, ইউনাইটেড নেশনস জেনারেল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে কর্মরত আছেন। এ বিষয়ে বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট করা দরকার। মাহ্দী আমিন বলেন, জাতিসংঘের প্রফেশনাল কাঠামোতে পি-১ হলো নতুন স্নাতকদের জন্য, পি-২ এর জন্য ন্যূনতম দুই বছরের অভিজ্ঞতা লাগে এবং পি-৩ পদের জন্য প্রয়োজন হয় অন্তত পাঁচ বছরের মধ্যবর্তী পেশাগত অভিজ্ঞতা। তিনি বাংলাদেশ সরকারি প্রতিনিধিদলেরও কোথাও সম্পৃক্ত হননি।

নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিয়ম

মাহ্দী আমিন জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মহল এই নিয়োগ নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ও অপপ্রচার চালাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে, জাতিসংঘের নিজস্ব নিয়মকানুন ও সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার অধীনে তাদের নির্বাহী কার্যালয়ের হিউম্যান রিসোর্সেস টিম সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে এই আন্তর্জাতিক নিয়োগ সম্পন্ন করেছে। ব্যারিস্টার জাইমা রহমান তার পেশাগত প্রোফাইল অনুযায়ী এই পদের যোগ্য প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিয়োগের যাবতীয় প্রক্রিয়া ও আর্থিক সুবিধাদি জাতিসংঘ সরাসরি বহন করে, যেখানে সরকারের সংশ্লিষ্টতার কোনো সুযোগ নেই। যে কেউ জাতিসংঘের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে এই নিয়োগের স্বচ্ছতা যাচাই করতে পারবেন। তার যে পেশাগত প্রোফাইল রয়েছে, তার সঙ্গে এই পদটিই সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর ওপরে পি-৪, পি-৫ বা ডিরেক্টর লেভেলের উচ্চপদ রয়েছে। নিজের মেধার জোরে আন্তর্জাতিক পরিসরে এমন একটি অবস্থানে পৌঁছানোকে আমাদের বরং সাধুবাদ জানানো উচিত।

যোগ্যতার মাপকাঠি ও পেশাগত অবস্থান

  • জাতিসংঘের প্রফেশনাল কাঠামো অনুযায়ী, পি-৩ পদের জন্য অন্তত পাঁচ বছরের মধ্যবর্তী পেশাগত অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়।
  • ব্যারিস্টার জাইমা রহমান তার মেধা ও অভিজ্ঞতা দিয়েই এই নিরপেক্ষ প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।
  • অতীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিশনে যেভাবে রাজনৈতিক বা পারিবারিক প্রভাব খাটানোর সংস্কৃতি ছিল, এখানে তার কোনো চর্চা হয়নি।
  • তিনি বাংলাদেশ সরকারি প্রতিনিধিদলের কোনো সদস্য নন এবং কোনো প্রকার রাষ্ট্রীয় প্রভাব তিনি ব্যবহার করেননি।
  • বিশ্বদরবারে নিজের সক্ষমতার জোরে জায়গা করে নেওয়ায় তাকে সাধুবাদ জানানো উচিত বলে মন্তব্য করেন মাহ্দী আমিন।

প্রতিনিধিদলের সফর ও জুবাইদা রহমানের কার্যক্রম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক জাতিসংঘ সফর অত্যন্ত সফল ছিল উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রী গতানুগতিক প্রথা ভেঙে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত বহরে বাণিজ্যিক ফ্লাইটে যাতায়াত করেছেন। প্রতিনিধিদলের সদস্যসংখ্যা ছিল ৩৫ জন, যারা সফরে ৮০টিরও অধিক দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও জাতিসংঘে অত্যন্ত ব্যস্ত ও কার্যকর সময় অতিবাহিত করেছেন। তিনি ৮টি কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং ৩টিতে বক্তব্য রাখেন। জাতিসংঘ উইমেন লিডার্স প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি ওয়ার্ল্ড ফার্স্ট স্পাউসেস ডায়ালগে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং মিডওয়াইফারি সাইড ইভেন্টে একজন চিকিৎসক হিসেবে তার অংশগ্রহণ ও বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে। বৈশ্বিক কূটনীতিতে এই সফর বাংলাদেশের আত্মমর্যাদা ও আত্মপরিচয়কে এক ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, অতীতে আমরা যে ধরনের রাজনৈতিক বা পারিবারিক প্রভাব খাটিয়ে আন্তর্জাতিক মিশনে পদায়ন কিংবা প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্তির সংস্কৃতি দেখেছি, তিনি কিন্তু সেভাবে যাননি। এই ধরনের সফলতাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো কোনোভাবেই কাম্য নয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ