• মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
২০২৬ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হ্যালজেন ফ্লাইদুবাই পাইলটের অতৃপ্ত বিয়ের শর্ত ও চাঞ্চল্যকর পোস্টের তথ্য দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে শিশুদের সঠিক বিকাশের ওপর: প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে নতুন ৪টি বিমানবন্দরে যাত্রীবাহী ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নির্ধারিত দামে এলপিজি না মিললে কঠোর ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা চার দিনের সফরে জাপানে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় জরুরি সংস্কারের তাগিদ বিশ্বব্যাংকের ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি পাইলটের পরিচয় সৌদিতে দ্রুত সেনা পাঠাচ্ছে তুরস্ক ও পাকিস্তান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে ১০ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বড় রদবদল

দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে শিশুদের সঠিক বিকাশের ওপর: প্রধানমন্ত্রী

রিপোর্টার: / ০ পঠিত
আপডেট: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬

শিশুদের নিজেদের প্রতিভা ও গুণাবলী বিকাশের সুযোগ করে দিতে পারলে দেশের ভিত্তি আরও মজবুত হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি পরিবারের ভিত্তি যেমন তার সন্তানদের সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার ওপর নির্ভর করে, তেমনি দেশের ভবিষ্যৎও নির্ভর করে শিশুদের সঠিক বিকাশের ওপর। শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’।

স্মৃতিচারণে প্রধানমন্ত্রী

অনুষ্ঠানের শুরুতে শিশুদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, আজকের অনুষ্ঠানটি মূলত শিশুদের নিয়ে। তাই বড়দের বক্তব্যের চেয়ে শিশুদের কথা শোনাই হওয়া উচিত এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, শিশু একাডেমির কার্যক্রম শুরুর সময় তিনি নিজেও শিশু হিসেবে সেখানে এসেছিলেন। শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তারেক রহমান জানান, শিশু একাডেমির ‘শিশু’ ম্যাগাজিনে তিনি ও তার ছোট ভাইয়ের লেখা প্রকাশিত হয়েছিল। অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত বোর্ডে নিজের একটি গল্প ও ছোট ভাইয়ের লেখা দেখতে পেয়ে পুরোনো স্মৃতি ফিরে আসার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। আজকে তোমরা শিশু হিসেবে যেমন এখানে উপস্থিত হয়েছ, একদিন আমিও এই শিশু একাডেমিতে এসেছিলাম।

প্রতিভা বিকাশে সরকারের উদ্যোগ

শিশুদের শুধু পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি ও সংগীতচর্চার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমাদের খেলাধুলা করতে হবে। প্রত্যেক শিশুর ভেতরে কোনো না কোনো গুণ রয়েছে এবং সেই গুণ বিকাশের জন্য প্রয়োজন যথাযথ সুযোগ। নিজের গিটার ও কিবোর্ড শেখার আগ্রহের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা গান বা নাচ পছন্দ করে, তাদের সেই প্রতিভা বিকাশে মনোযোগ দিতে হবে। একইভাবে যারা কেরাত ও কোরআন তেলাওয়াত পছন্দ করে, তাদের তা সুন্দরভাবে রপ্ত করা উচিত। সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিশুদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। প্রথমবারের মতো প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায় থেকে সারাদেশে ২২ লাখ শিশু ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। ভবিষ্যতে এখান থেকেই আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। শিশুদের বিভিন্ন প্রতিভার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, কেউ ভালো ছবি আঁকতে পারে, কেউ কবিতা আবৃত্তি করতে পারে, কেউ গান, নাচ কিংবা কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পছন্দ করে। প্রথমবারের মতো প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায় থেকে সারাদেশে ২২ লাখ শিশু- ১১ লাখ ছেলে ও ১১ লাখ মেয়ে ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। সিলেট থেকে শুরু করে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে ক্রীড়া আয়োজন সম্পন্ন করার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রত্যেকটি বাচ্চার মধ্যে কোনো না কোনো কিছু একটা কোয়ালিটি আছে। আমাদের দরকার শুধু তাকে সেই সুযোগটা করে দেওয়া, যার মাধ্যমে সে নিজেকে বিকশিত করতে পারবে। একটি তৃতীয় ভাষায় দক্ষতা ভবিষ্যতে বিদেশে পড়াশোনা কিংবা কর্মক্ষেত্রে অন্য দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে শিশুদের সহায়তা করবে।

নতুন লক্ষ্য ও পরিকল্পনা

  • শহরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত গ্রামের শিশুরাও যেন শিল্প, সংস্কৃতি, সংগীত ও খেলাধুলার সুযোগ পায়, সে জন্য স্কুল পর্যায় থেকে সুবিধা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
  • ২০২৭ ও ২০২৮ সাল থেকে পুরো প্রক্রিয়া শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী ক্ষেত্র বেছে নিতে পারবে।
  • বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য স্কুল পর্যায় থেকে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, ম্যান্ডারিন, জার্মান, জাপানিজসহ অতিরিক্ত বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ থাকবে।

মানবিক বোধ ও প্রকৃতিপ্রীতি

শিশুদের শুধু পড়াশোনা, খেলাধুলা বা শিল্প-সংস্কৃতিতেই দক্ষ হলে হবে না; তাদের মানবিক মানুষ হিসেবেও গড়ে উঠতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমাদেরকে মানবিক হতে হবে। বাড়ির বা স্কুলের গাছের যত্ন নিতে হবে এবং পশুপাখির প্রতি সদয় হতে হবে। প্রকৃতি ও প্রাণীর প্রতি দায়িত্বশীল আচরণই একটি সুন্দর ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শিশু জাদুঘর ভবনের নিচতলায় সোলার প্যানেল ও সাব-স্টেশন উদ্বোধন করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ