• শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
৭ নভেম্বর: রাজনৈতিক ঐক্য ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের এক ঐতিহাসিক অধ্যায় কলাপাড়ায় নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার মালামাল চুরি, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পুলিশ শিশু-কিশোরদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী ব্যথাজনিত সমস্যায় চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দিয়ে আলোচনায় হাকিম মাওলানা আব্দুল হান্নান কলাপাড়া বেকারি মালিক সমিতির কমিটি গঠন, সভাপতি আল আমিন সম্পাদক হারুন কলাপাড়ায় “গ্রাম আদালত” বিষয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত জনগণের কল্যাণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রত্যাশায় সংবিধান সংশোধনের আহ্বান চিফ হুইপের মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিতের আহ্বান পোশাকশিল্প মালিকদের কুইক রেন্টালের পরিবর্তে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর, সৌরবিদ্যুতে ১,৫০০ কোটি টাকার তহবিল দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

পাবনায় নিখোঁজ শিশু উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা : পরিবারের ক্ষোভ/দৈনিক ক্রাইম বাংলা।

রিপোর্টার: / ৪৯৭ পঠিত
আপডেট: মঙ্গলবার, ৮ জুন, ২০২১

জামিল পাবনা প্রতিনিধি : দীর্ঘ ৩০ ঘন্টা চেষ্টার পর অবেশেষে পাবনার বেড়ায় নিখোঁজ শিশু উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বেড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভুমি) মাহবুব হাসান ও বেড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরবিন্দ সরকার গতকাল মঙ্গলবার ( ০৭’ জুন) বিকেল ৪টায় অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করেন। এদিকে শিশুকে উদ্ধার না করেই অভিযান শেষ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিখোঁজ শিশুর পিতামাতা।
সুত্র জানায়, পাবনার বেড়া উপজেলায় হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়নের পেঁচাখোলা গ্রামের কতিপয় বালু দস্যু যমুনা নদী থেকে বালি তুলে পুকুর ভরাট করছিল। নতুন পেঁচাকোলা গ্রামের মো. আযম আলীর ছেলে শিশু আসাদুল্লাহ (৭) এই কাজ দেখার জন্য সেখানে গিয়ে নিখোঁজ হয়। গত ৩০ ঘন্টা পড়েও শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এলাকাবাসী ও নিখোঁজ শিশুটির পরিবার জানায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার পর থেকে শিশু আসাদুল্লাহকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। শিশুটির পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে তাকে খোঁজাখুঁজি করে। এক পর্যায়ে আসাদুল্লাহর খেলার সঙ্গী ও প্রতিবেশী সোহাগ (৭) নামের আরেক শিশু জানায়, সকাল ৮টার দিকে আসাদুল্লাহ ও সে ওই স্থানে বসে পাইপের মাধ্যমে বালু তোলা ও পানি পড়া দেখছিল। এক সময় প্রতিবেশী সোহাগ বাড়ি চলে গেলেও আসাদুল্লাহ ঘটনাস্থলেই বসে থাকে। এর পর থেকে তাকে আর পাওয়া যাচ্ছিল না। এতে অনেকেই ধারণা করছেন শিশুটি পানি মেশানো বালুর মধ্যে পড়ে ডুবে গিয়ে থাকতে পারে।
এরপর স্বজনেরা বালু পড়ার ওই স্থানে শিশুটিকে খোঁজাখুজি করেন। তাঁরা ব্যর্থ হওয়ার পর বেড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কোদাল, বেলচা প্রভৃতির সাহায্যে ঘন্টা দুয়েক বালু সরিয়ে শিশুটির খোঁজ পায়নি। শেষে সন্ধায় থেকে রাত একটা পর্যন্ত এবং পরদিন মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভেকু মেশিনের সাহায্যে ঐ স্থানের দুইটি পুকুরের বালু সরিয়ে শিশুটিকে আবারও খোঁজা হয়। এ সব চেষ্টার পর বেলা ৪টার দিকে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করা হয়।
এলাকাবাসী আরও জানান, যমুনা নদী থেকে বালু তোলা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। এর আগে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের কারণে বালু তোলা প্রায় বন্ধ ছিল। কিন্তু নজরদারি কমে যাওয়ার সুযোগে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। হাটুরিয়া নাকালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতা ফজর আলীর নেতৃত্বে একটি চক্র নদী থেকে অবৈধ বালি উত্তোলন করে আসছে। কোন নিরপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই তারা বালি উত্তোলন করে আসছে।
এ ব্যাপারে বেড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অরবিন্দ সরকার জানান, ‘সোমবার থেকেই শিশুটিকে খুঁজে বের করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। উদ্ধার কাজে যত ররকম কৌশল প্রয়োগ করা দরকার পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সহোযোগিতায় আমরা তা করেছি। তবে ধারণা করা হচ্ছে ছেলেটি এখানে নেই। নদীর তীরবর্তী হওয়ায় নৌকায় মাইক নিয়ে নদীতে ছেলেটিকে খোঁজা হচ্ছে। শিশুটিকে খুঁজে বেড় করার জন্য আমাদের অভিযান সমাপ্ত করা হয়েছে। বালু ফেলার কাজে ব্যবহৃত জব্দকৃত বাল্কহেড ও পাইপ থানায় আনা হয়েছে।’

নিখোজ শিশুর পিতা মো. আযম আলী সাংবাদিকদের বলেন, আমার ছেলেকে উদ্ধার না করেই অভিযান শেষ করা অমানবিক ও দুখজনক। তিনি উদ্ধার অভিযান চালু রাখার অনুরোধ করেন।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ