• রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রিমান্ড ও জামিন দুটিই নামঞ্জুর: সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী কারাগারে ২৪ ঘণ্টায় হামে ১১ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্তের ঢল—হাসপাতালে হাজারো শিশু ভর্তি, ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী আটক, আজ আদালতে তোলা হবে—ডিবি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে,,, ঈদযাত্রায় রক্তাক্ত সড়ক—১৫ দিনে প্রাণ গেল ৩৫১ জনের, আহত সহস্রাধিক,, মব কালচার রোধে জিরো টলারেন্স নীতি—অবরোধ ও বিশৃঙ্খলায় কঠোর অবস্থানে সরকার নো কিংস’ স্লোগানে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের সমাবেশ প্রশাসনে বড় রদবদল: ১১ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, সংকট মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজের আহ্বান মন্ত্রীর বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জন্য সুখবর: প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ বাতিলের ঘোষণা গ্রামীণ সড়কে আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা: দুর্নীতিমুক্ত উন্নয়নে জোর মন্ত্রীর

তিন দশকের অপেক্ষার অবসান: পটুয়াখালী–৪ আসনে ধানের শীষের জোয়ার,,,,

মোঃ আল আমিন / ৬৪ পঠিত
আপডেট: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

তিন দশকের অপেক্ষার অবসান: পটুয়াখালী–৪ আসনে ধানের শীষের জোয়ার

অর্ধলাখের বেশি ভোটে বিজয়ী এবিএম মোশাররফ হোসেন, উপকূলে উন্নয়নের প্রত্যাশা

নিজস্ব প্রতিবেদোক :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী–৪ (কলাপাড়া–রাঙ্গাবালী) আসনে প্রায় তিন দশক পর জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। অর্ধলাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন। দীর্ঘদিন পর এ আসনে ধানের শীষের প্রত্যাবর্তনে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর প্রার্থী অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, যিনি একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন। প্রায় ৩০ বছর পর এই উপকূলীয় আসনে রাজনৈতিক পালাবদল স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় আসন

পটুয়াখালী–৪ আসনটি দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ বিদ্যুৎকেন্দ্র পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত, গুরুত্বপূর্ণ সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন এবং সম্ভাবনাময় দ্বীপাঞ্চল রাঙ্গাবালী উপজেলা। পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ ও সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতির বিশাল সম্ভাবনাও রয়েছে এ অঞ্চলে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পর্যটন ও অবকাঠামো উন্নয়নে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি গত কয়েক বছরে।

‘এটি উপকূলবাসীর বিজয়’

বিজয়ী প্রার্থী এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন,
“এটি শুধু আমার ব্যক্তিগত বিজয় নয়, উপকূলবাসীর বিজয়। মানুষ উন্নয়ন, স্বচ্ছ রাজনীতি ও নিরাপদ জীবনের পক্ষে রায় দিয়েছে। পর্যটন, মৎস্য ও বিদ্যুৎ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করব।”

কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাজী হুমায়ুন সিকদার বলেন, প্রায় ত্রিশ বছর পর এ আসনে ধানের শীষের জয় প্রমাণ করেছে—উপকূলবাসী পরিবর্তন চায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এ আসনকে গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করবে।

রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্র ঘিরে বিপুল সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি। একজন মন্ত্রী পেলে উপকূলীয় সড়ক উন্নয়ন, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, পর্যটন অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও মৎস্য খাতের আধুনিকায়নে গতি আসবে।

উন্নয়নই এখন মূল প্রত্যাশা

হাজীপুরের বাসিন্দা মোঃ আলতাফ হোসেন  খান  বলেন, “দল-মত নির্বিশেষে উন্নয়নের স্বার্থে আমরা ভোট দিয়েছি। এবিএম মোশাররফ হোসেনকে মন্ত্রী করা হলে এলাকায় দৃশ্যমান উন্নয়ন হবে।”

ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এই উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই বেড়িবাঁধ, আধুনিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগকে জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

হাজীপুর বাশির  প্রত্যাশা—এই বিজয় যেন কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তনেই সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং বাস্তব উন্নয়ন ও টেকসই পরিকল্পনার মাধ্যমে উপকূলের মানুষের জীবনমানে ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ