
কালবৈশাখীর তাণ্ডব: বজ্রপাতে পাঁচ জেলায় ১১ জনের মৃত্যু
কালবৈশাখীর তাণ্ডব: বজ্রপাতে পাঁচ জেলায় ১১ জনের মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশজুড়ে কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় পাঁচ জেলায় অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরের পর থেকে বিভিন্ন জেলায় এসব মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে সুনামগঞ্জ জেলায়।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, সুনামগঞ্জে ৫ জন, রংপুর ও ময়মনসিংহ জেলায় ২ জন করে এবং নেত্রকোণা ও হবিগঞ্জ জেলায় ১ জন করে নিহত হয়েছেন।
হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার মৌসুমে এমন আকস্মিক বজ্রপাতে কৃষকদের মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি জানান, ধর্মপাশা উপজেলায় বজ্রপাতে হবিবুর রহমান (২২) ও রহমত উল্লাহ (১৩) নিহত হন। হবিবুর রহমান স্থানীয় বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি চাচার সঙ্গে হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতের শিকার হন। একইভাবে রহমত উল্লাহ বাবার সঙ্গে মাঠে কাজ করার সময় প্রাণ হারান।
এ ঘটনায় আহত জয়নাল হক ও শিখা মনিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়েছে। তাহিরপুর উপজেলায় জামলাবাজ গ্রামে কাজ করার সময় আবুল কালাম ওরফে কালা মিয়া (২৮) নামে এক শ্রমিক বজ্রপাতে মারা যান। এছাড়া নূর মোহাম্মদ নামে আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে সিলেট পাঠানো হয়েছে।
দিরাই উপজেলায় কালিয়াগোটার হাওরে ধান কাটার সময় লিটন মিয়া (৩৮) এবং জামালগঞ্জ উপজেলার পাগনার হাওরে নুর জামাল (২৬) বজ্রপাতে নিহত হন। একই এলাকায় তোফাজ্জল হোসেন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং দুটি গবাদিপশুর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
এদিকে ময়মনসিংহ ও রংপুরেও পৃথক স্থানে বজ্রপাতে ২ জন করে নিহত হয়েছেন। এছাড়া নেত্রকোণা ও হবিগঞ্জে হাওরে কাজ করার সময় আরও ২ জন প্রাণ হারান। সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদ ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, কালবৈশাখীর মৌসুমে বজ্রপাতের ঝুঁকি বেশি থাকে। বিশেষ করে খোলা হাওর এলাকায় কাজ করার সময় কৃষকদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।