• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনকে ডা. জুবাইদার আহ্বান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস নীলগঞ্জের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা, হাজিপুরে মতবিনিময়ে অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন যুদ্ধের কারণে আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারবেন বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান, সার কারখানা স্থাপনেও সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ তোমাদের মধ্যেই দেখি নতুন বাংলাদেশ, নতুন স্বপ্ন’—শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি কলাপাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমজীবী নুরুল ইসলাম ফকিরের মৃত্যু কলাপাড়ায় তুচ্ছ ঘটনায় পিতা ও পুত্রকে পিটিয়ে আহত ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলো প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে ৬৪ জেলায় সমন্বিত কর্মসূচির আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের

ভারতীয় গরু বন্ধে স্বস্তিতে রাজশাহীর খামারিরা, কোরবানির হাটে দেশি পশুর আধিপত্য

রিপোর্টার: / ১৪৬ পঠিত
আপডেট: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬

ভারতীয় গরু বন্ধে স্বস্তিতে রাজশাহীর খামারিরা, কোরবানির হাটে দেশি পশুর আধিপত্য

রাজশাহী প্রতিনিধি:

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজশাহীর কোরবানির পশুর হাটগুলোতে জমে উঠেছে কেনাবেচা। শহর থেকে গ্রামাঞ্চল—সবখানেই এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখর পশুর হাট। আর এবার স্থানীয় খামারিদের মুখে বাড়তি হাসি ফুটিয়েছে একটি বিষয়—সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় বাজারে দেশি পশুর আধিপত্য নিশ্চিত হয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর জানিয়েছে, এ বছর রাজশাহীতে কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উদ্বৃত্ত রয়েছে। জেলার মোট চাহিদা ৩ লাখ ৭১ হাজার ৫৮টি পশু হলেও স্থানীয় খামারি ও গৃহস্থদের কাছে প্রস্তুত রয়েছে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ১১টি পশু। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় প্রায় ৯১ হাজার ৯৫৩টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর উদ্বৃত্ত পশুগুলো রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কোরবানির হাটে সরবরাহ করা হবে। এতে দেশের অন্যান্য এলাকার পশুর চাহিদা মেটাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে রাজশাহী।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, মজুত পশুর মধ্যে রয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৮৪১টি গরু, ৩ হাজার ৪২৫টি মহিষ, ৩ লাখ ১১ হাজার ৩৩৯টি ছাগল এবং ৪৩ হাজার ৪০৬টি ভেড়া। জেলার প্রায় ২৬ হাজার ২৩৪টি ছোট-বড় খামারে এসব পশু প্রাকৃতিক উপায়ে ও দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজা করা হয়েছে। তবে পশুখাদ্যের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন খামারিরা।

খামারিদের অভিযোগ, বিগত বছরগুলোতে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু প্রবেশ করায় দেশি খামারিরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হতেন। অনেক সময় উৎপাদন খরচও উঠতো না। তবে এবার সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে সীমান্তের অস্থায়ী হাট বন্ধ থাকায় ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ বন্ধ হয়েছে। এতে স্থানীয় খামারিদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

খামারি সবুজ বলেন, “ভারতীয় গরু না এলে আমরা ন্যায্য দাম পাবো। তা না হলে খামার টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যাবে।”

আরেক খামারি তারেক বলেন, “আমরা চাই প্রশাসন এমন পরিবেশ নিশ্চিত করুক যাতে হাটে নির্বিঘ্নে কেনাবেচা করা যায় এবং খামারিরা ন্যায্য মূল্য পান।”

ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী বানেশ্বর হাটসহ বড় ছোট পশুর হাটগুলোতে ভিড় বাড়ছে। হাটে জালনোট শনাক্তকরণ মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা পশু শনাক্তে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও হাট এলাকায় বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যাপারীরা যাতে নিরাপদে পশু কিনে পরিবহন করতে পারেন, সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতোয়ার রহমান বলেন, “এ বছর চাহিদার তুলনায় প্রায় ৯১ হাজার ৯৫৩টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। সীমান্তের হাট বন্ধ থাকায় দেশি খামারিরা স্বস্তিতে আছেন এবং আশা করা যাচ্ছে তারা ন্যায্য মূল্য পাবেন।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ