• বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
স্বচ্ছ নিয়োগে ভোলায় পুলিশে চাকরি পেলেন ৩৩ তরুণ-তরুণী, খুশিতে পরিবারগুলো ভারতীয় গরু বন্ধে স্বস্তিতে রাজশাহীর খামারিরা, কোরবানির হাটে দেশি পশুর আধিপত্য ভোলা নৌপথে বাড়ছে যাত্রীচাপ, ফিটনেসবিহীন লঞ্চ নিয়েঈদে শঙ্কা এআই ও সাইবার নিরাপত্তায় দক্ষতা না বাড়ালে রাষ্ট্র ঝুঁকিতে পড়বে: তথ্যমন্ত্রী শ্রমিক কল্যাণ ও নগর উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর ডে-কেয়ারে শিশুদের সঙ্গে আনন্দঘন মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুলশান-বনানী লেক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, দূষণ রোধে জোর বিশ্বকাপ আমেজে নতুন লুকে ঝড় তুললেন শাকিরা, নেটদুনিয়ায় আলোড়ন সীমান্ত হত্যা ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা এনসিপি নেতা নাসির উদ্দীন পাটোয়ারীর ১ জুলাই থেকে নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন, ধাপে ধাপে বাড়বে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন

ভারতীয় গরু বন্ধে স্বস্তিতে রাজশাহীর খামারিরা, কোরবানির হাটে দেশি পশুর আধিপত্য

রিপোর্টার: / ২ পঠিত
আপডেট: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬

ভারতীয় গরু বন্ধে স্বস্তিতে রাজশাহীর খামারিরা, কোরবানির হাটে দেশি পশুর আধিপত্য

রাজশাহী প্রতিনিধি:

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজশাহীর কোরবানির পশুর হাটগুলোতে জমে উঠেছে কেনাবেচা। শহর থেকে গ্রামাঞ্চল—সবখানেই এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখর পশুর হাট। আর এবার স্থানীয় খামারিদের মুখে বাড়তি হাসি ফুটিয়েছে একটি বিষয়—সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় বাজারে দেশি পশুর আধিপত্য নিশ্চিত হয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর জানিয়েছে, এ বছর রাজশাহীতে কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উদ্বৃত্ত রয়েছে। জেলার মোট চাহিদা ৩ লাখ ৭১ হাজার ৫৮টি পশু হলেও স্থানীয় খামারি ও গৃহস্থদের কাছে প্রস্তুত রয়েছে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ১১টি পশু। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় প্রায় ৯১ হাজার ৯৫৩টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর উদ্বৃত্ত পশুগুলো রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কোরবানির হাটে সরবরাহ করা হবে। এতে দেশের অন্যান্য এলাকার পশুর চাহিদা মেটাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে রাজশাহী।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, মজুত পশুর মধ্যে রয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৮৪১টি গরু, ৩ হাজার ৪২৫টি মহিষ, ৩ লাখ ১১ হাজার ৩৩৯টি ছাগল এবং ৪৩ হাজার ৪০৬টি ভেড়া। জেলার প্রায় ২৬ হাজার ২৩৪টি ছোট-বড় খামারে এসব পশু প্রাকৃতিক উপায়ে ও দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজা করা হয়েছে। তবে পশুখাদ্যের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন খামারিরা।

খামারিদের অভিযোগ, বিগত বছরগুলোতে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু প্রবেশ করায় দেশি খামারিরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হতেন। অনেক সময় উৎপাদন খরচও উঠতো না। তবে এবার সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে সীমান্তের অস্থায়ী হাট বন্ধ থাকায় ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ বন্ধ হয়েছে। এতে স্থানীয় খামারিদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

খামারি সবুজ বলেন, “ভারতীয় গরু না এলে আমরা ন্যায্য দাম পাবো। তা না হলে খামার টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যাবে।”

আরেক খামারি তারেক বলেন, “আমরা চাই প্রশাসন এমন পরিবেশ নিশ্চিত করুক যাতে হাটে নির্বিঘ্নে কেনাবেচা করা যায় এবং খামারিরা ন্যায্য মূল্য পান।”

ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী বানেশ্বর হাটসহ বড় ছোট পশুর হাটগুলোতে ভিড় বাড়ছে। হাটে জালনোট শনাক্তকরণ মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা পশু শনাক্তে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও হাট এলাকায় বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যাপারীরা যাতে নিরাপদে পশু কিনে পরিবহন করতে পারেন, সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতোয়ার রহমান বলেন, “এ বছর চাহিদার তুলনায় প্রায় ৯১ হাজার ৯৫৩টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। সীমান্তের হাট বন্ধ থাকায় দেশি খামারিরা স্বস্তিতে আছেন এবং আশা করা যাচ্ছে তারা ন্যায্য মূল্য পাবেন।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ