• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনকে ডা. জুবাইদার আহ্বান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস নীলগঞ্জের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা, হাজিপুরে মতবিনিময়ে অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন যুদ্ধের কারণে আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারবেন বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান, সার কারখানা স্থাপনেও সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ তোমাদের মধ্যেই দেখি নতুন বাংলাদেশ, নতুন স্বপ্ন’—শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি কলাপাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমজীবী নুরুল ইসলাম ফকিরের মৃত্যু কলাপাড়ায় তুচ্ছ ঘটনায় পিতা ও পুত্রকে পিটিয়ে আহত ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলো প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে ৬৪ জেলায় সমন্বিত কর্মসূচির আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের

ঈদ সামনে, খুলনার কামারশালায় ব্যস্ততা চরমে; টুংটাং শব্দে মুখর বাজার

রিপোর্টার: / ৭৯ পঠিত
আপডেট: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬

ঈদ সামনে, খুলনার কামারশালায় ব্যস্ততা চরমে; টুংটাং শব্দে মুখর বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে খুলনা জুড়ে কামারশালাগুলোতে বেড়েছে কর্মব্যস্ততা। পশু জবাই ও মাংস কাটার কাজে ব্যবহৃত দা, বঁটি, ছুরি, চাকু, হাসুয়া ও চাপাতিসহ বিভিন্ন ধারালো সরঞ্জাম তৈরি ও শান দিতে এখন দিন-রাত কাজ করছেন কামাররা।

নগরীর বড়বাজার, নিউমার্কেট, গল্লামারি ও টুটপাড়া জোড়াকল বাজারসহ বিভিন্ন উপজেলার হাট-বাজারের কামারশালাগুলো এখন টুংটাং শব্দে মুখরিত। কয়লার আগুনে লোহা গরম করে হাতুড়ির আঘাতে তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের ধারালো সরঞ্জাম।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জ্বলন্ত আগুনের তাপে লাল হয়ে ওঠা লোহাকে পিটিয়ে আকার দিচ্ছেন কারিগররা। নতুন সরঞ্জাম তৈরির পাশাপাশি পুরোনো মরিচা ধরা দা, বঁটি ও ছুরিও শান দিয়ে চকচকে ও ধারালো করে নিচ্ছেন ক্রেতারা।

কালিপদ নামের এক কর্মকার জানান, “আমরা স্প্রিং ও লোহা ব্যবহার করে দা, বঁটি ও ছুরি তৈরি করছি। তবে স্প্রিং-লোহা দিয়ে তৈরি সরঞ্জামের দাম কিছুটা বেশি। এখন ঈদ উপলক্ষে কাজ অনেক বেড়ে গেছে।”

তিনি জানান, বর্তমানে দা কেজি প্রতি ১১০ টাকা দরে প্রায় ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছুরির দাম ২০০ থেকে ২৫০ টাকা এবং বঁটির দাম প্রায় ৩৫০ টাকা।

অন্যদিকে আলঙ্গীর হালদার বলেন, “গরু কোরবানি ও মাংস কাটার জন্য ধারালো সরঞ্জামের প্রয়োজন হয়। তাই আগে থেকেই ছুরি, বঁটি ও চাপাতি তৈরি করিয়ে নিচ্ছি। যদিও সব কিছুর দাম বেড়েছে, তারপরও প্রয়োজনের কারণে কিনতেই হচ্ছে।”

কামারদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় এ বছর লোহা ও কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে কাজের চাপ বেশি থাকলেও লাভ তুলনামূলক কম হচ্ছে।

তারা আরও জানান, নতুন প্রজন্মের অনেকেই এই ঐতিহ্যবাহী পেশায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। তারপরও বছরের সবচেয়ে বড় আয় আসে ঈদুল আজহার মৌসুমে, তাই বংশপরম্পরায় অনেকে এখনো টিকিয়ে রেখেছেন এই পেশা।

সব মিলিয়ে ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ব্যস্ত হয়ে উঠছে খুলনার কামারশালাগুলো। আগুন, হাতুড়ি আর লোহার টুংটাং শব্দ যেন ঈদের আগমনী বার্তা বহন করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ