• মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৪:১৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ঈদে নিরাপত্তা হুমকি নেই, দেশজুড়ে বিশেষ নজরদারিতে র‌্যাব ঈদের ছুটিতে রাজধানীর বিনোদনকেন্দ্রে বাড়তি আয়োজন, দর্শনার্থীদের ঢল নামার প্রত্যাশা ঈদ সামনে, খুলনার কামারশালায় ব্যস্ততা চরমে; টুংটাং শব্দে মুখর বাজার ঈদ সামনে, পটুয়াখালীর পশুর হাটে উপচে পড়া ভিড়; জমে উঠেছে কোটি টাকার বেচাকেনা ঈদযাত্রায় যমুনা সেতুতে ঘরমুখো মানুষের ঢল, ২৪ ঘণ্টায় পারাপার ৫৩ হাজার যানবাহন ছয় অঞ্চলে ৮০ কিমি বেগে ঝড়ের আশঙ্কা, নদীবন্দরে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত ঈদে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিতে বিশেষ নজরদারি, ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত থাকবে জরুরি টিম রামিসা হত্যা মামলার বিচার ১ জুন শুরু, ঈদেও খোলা থাকবে আদালত: আইনমন্ত্রী তিন বছর মেয়াদি নতুন সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে বাংলাদেশ-আইএমএফের সমঝোতা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী বিদায়ী হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা

ঈদ সামনে, খুলনার কামারশালায় ব্যস্ততা চরমে; টুংটাং শব্দে মুখর বাজার

রিপোর্টার: / ৩ পঠিত
আপডেট: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬

ঈদ সামনে, খুলনার কামারশালায় ব্যস্ততা চরমে; টুংটাং শব্দে মুখর বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে খুলনা জুড়ে কামারশালাগুলোতে বেড়েছে কর্মব্যস্ততা। পশু জবাই ও মাংস কাটার কাজে ব্যবহৃত দা, বঁটি, ছুরি, চাকু, হাসুয়া ও চাপাতিসহ বিভিন্ন ধারালো সরঞ্জাম তৈরি ও শান দিতে এখন দিন-রাত কাজ করছেন কামাররা।

নগরীর বড়বাজার, নিউমার্কেট, গল্লামারি ও টুটপাড়া জোড়াকল বাজারসহ বিভিন্ন উপজেলার হাট-বাজারের কামারশালাগুলো এখন টুংটাং শব্দে মুখরিত। কয়লার আগুনে লোহা গরম করে হাতুড়ির আঘাতে তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের ধারালো সরঞ্জাম।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জ্বলন্ত আগুনের তাপে লাল হয়ে ওঠা লোহাকে পিটিয়ে আকার দিচ্ছেন কারিগররা। নতুন সরঞ্জাম তৈরির পাশাপাশি পুরোনো মরিচা ধরা দা, বঁটি ও ছুরিও শান দিয়ে চকচকে ও ধারালো করে নিচ্ছেন ক্রেতারা।

কালিপদ নামের এক কর্মকার জানান, “আমরা স্প্রিং ও লোহা ব্যবহার করে দা, বঁটি ও ছুরি তৈরি করছি। তবে স্প্রিং-লোহা দিয়ে তৈরি সরঞ্জামের দাম কিছুটা বেশি। এখন ঈদ উপলক্ষে কাজ অনেক বেড়ে গেছে।”

তিনি জানান, বর্তমানে দা কেজি প্রতি ১১০ টাকা দরে প্রায় ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছুরির দাম ২০০ থেকে ২৫০ টাকা এবং বঁটির দাম প্রায় ৩৫০ টাকা।

অন্যদিকে আলঙ্গীর হালদার বলেন, “গরু কোরবানি ও মাংস কাটার জন্য ধারালো সরঞ্জামের প্রয়োজন হয়। তাই আগে থেকেই ছুরি, বঁটি ও চাপাতি তৈরি করিয়ে নিচ্ছি। যদিও সব কিছুর দাম বেড়েছে, তারপরও প্রয়োজনের কারণে কিনতেই হচ্ছে।”

কামারদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় এ বছর লোহা ও কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে কাজের চাপ বেশি থাকলেও লাভ তুলনামূলক কম হচ্ছে।

তারা আরও জানান, নতুন প্রজন্মের অনেকেই এই ঐতিহ্যবাহী পেশায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। তারপরও বছরের সবচেয়ে বড় আয় আসে ঈদুল আজহার মৌসুমে, তাই বংশপরম্পরায় অনেকে এখনো টিকিয়ে রেখেছেন এই পেশা।

সব মিলিয়ে ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ব্যস্ত হয়ে উঠছে খুলনার কামারশালাগুলো। আগুন, হাতুড়ি আর লোহার টুংটাং শব্দ যেন ঈদের আগমনী বার্তা বহন করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ