Array আরেকটি বিপ্লব আসন্ন’, দেশবাসীকে প্রস্তুতির আহ্বান জামায়াত আমিরের আরেকটি বিপ্লব আসন্ন’, দেশবাসীকে প্রস্তুতির আহ্বান জামায়াত আমিরের – Daily Crime Bangla
  • শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:১২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
চুনারুঘাটে পুত্রবধূর ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শ্বশুরের বিরুদ্ধে মামলা, ঘরে আগুন দেওয়ারও অভিযোগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগে ঢাবিতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ, নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি আরেকটি বিপ্লব আসন্ন’, দেশবাসীকে প্রস্তুতির আহ্বান জামায়াত আমিরের জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে সংরক্ষিত হবে বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছয় মাসের কর্মমূল্যায়নে মন্ত্রিসভায় বড় রদবদলের আভাস, পরিবর্তনের তালিকায় একাধিক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নারীকেন্দ্রিক অভিযোজন কৌশল, সহনশীল বাংলাদেশ গড়তে বড় বিনিয়োগ ফ্রি কোটা অর ডাই’ লিখে রাজপথে প্রতিবাদের প্রতীক: জুলাই আন্দোলনের সাহসী মুখ আব্দুল্লাহ আল মামুন শেখ হাসিনার বিচার নিশ্চিত করতে হবে’—এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বিভেদের রাজনীতি চললে স্বৈরাচারের ফেরার সুযোগ তৈরি হবে’—রুহুল কবির রিজভী জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আরেকটি বিপ্লব আসন্ন’, দেশবাসীকে প্রস্তুতির আহ্বান জামায়াত আমিরের

রিপোর্টার: / ২৪ পঠিত
আপডেট: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬

 

‘আরেকটি বিপ্লব আসন্ন’, দেশবাসীকে প্রস্তুতির আহ্বান জামায়াত আমিরের

উপশিরোনাম:
গণরায় বাস্তবায়ন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, শিক্ষাঙ্গনে ‘ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতি’ বন্ধ ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি; জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব পুরো জাতির বলে মন্তব্য।

ঢাকা, ৫ আগস্ট: দেশের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ‘আরেকটি বিপ্লব আসন্ন’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের চলমান পরিস্থিতি নতুন একটি গণআন্দোলনের দিকে ইঙ্গিত করছে। এ জন্য তিনি দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। এতে জোটভুক্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের বর্তমান বাস্তবতা দেখে মনে হচ্ছে, জনগণকে আবারও অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নামতে হতে পারে। তিনি বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষ কখনো চুপ করে বসে থাকে না। পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে ‘আরেকটি বিপ্লব’ অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অন্যায়ের বিচার একদিন না একদিন হবেই। তাঁর ভাষায়, পাপ একসময় প্রকাশ পায় এবং অন্যায়ের পরিণতি এড়ানো যায় না। তিনি সতর্ক করে বলেন, জনগণের দাবি উপেক্ষা করা হলে কোনো শক্তিই সরকারের পতন ঠেকাতে পারবে না।

জামায়াত আমির বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিল। ভবিষ্যতের যেকোনো আন্দোলনেও জনগণের সর্বস্তরের অংশগ্রহণ থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। জেল, জুলুম কিংবা ফাঁসির ভয় দেখিয়ে আন্দোলন দমন করা যাবে না বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, যারা অতীতে নির্যাতনের শিকার ছিলেন, তারা যদি ক্ষমতায় গিয়ে একই ধরনের আচরণ করেন, তাহলে জনগণ তাদেরও ফ্যাসিবাদী হিসেবেই বিবেচনা করবে। তাই জনগণকে সম্মান করার এবং ফ্যাসিবাদী আচরণ পরিহারের আহ্বান জানান তিনি।

জনগণের গণরায়কে সম্মান জানাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কেউ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। তিনি দাবি করেন, গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে তাদের ওপর নানা ধরনের চাপ ও আপসের প্রস্তাব এলেও তারা অবস্থান থেকে সরে আসবেন না।

জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই আন্দোলনের কোনো একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দল ‘মাস্টারমাইন্ড’ নয়। আন্দোলনের প্রকৃত শক্তি ছিল সাধারণ মানুষ, আর নেতৃত্ব দিয়েছে ছাত্র ও তরুণ সমাজ। তাই এ আন্দোলনের কৃতিত্ব পুরো জাতির।

তিনি ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত নিহত, আহত, গুম, নির্যাতিত ও কারাবন্দিদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন এবং শহীদ পরিবারগুলোর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, আহতদের উন্নত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, শিক্ষাঙ্গনে আবারও গণরুম ও গেস্টরুমের মতো ‘ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতি’ ফিরে আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিনি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দেওয়া অনেক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। একই সঙ্গে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগ কমানোর পরিবর্তে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

সমাবেশে বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমেদ বীর বিক্রম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, বাংলাদেশ নাগরিক পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপা চেয়ারম্যান রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা। তাঁরা গণতান্ত্রিক সংস্কার, গণরায়ের বাস্তবায়ন, জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতি, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

সমাবেশের শেষ বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেখানে অন্যায় হবে, সেখানেই প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে। তিনি ফ্যাসিবাদমুক্ত, মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সম্পাদকের নোট: প্রতিবেদনে রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য সংবাদরূপে উপস্থাপন করা হয়েছে। উল্লিখিত অভিযোগ, দাবি ও মন্তব্য সংশ্লিষ্ট বক্তাদের নিজস্ব বক্তব্য;


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ