
সংযুক্ত আরব আমিরাতের তিনটি প্রধান বিমানবন্দর—দুবাই, আবুধাবি এবং শারজাহতে বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার একাধিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং অনেক উড়োজাহাজ আট ঘণ্টারও বেশি বিলম্বে ছেড়েছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে এমিরেটস, ফ্লাইদুবাই, এয়ার আরাবিয়া ও ইতিহাদসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থার যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশীয় রুটের ফ্লাইটগুলোতে বড় ধরনের সূচি পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।
দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাতিল হওয়া ফ্লাইটের তালিকায় রয়েছে আম্মান থেকে আসা এমিরেটসের ইকে৯০২ ফ্লাইট। এছাড়া ফ্লাইদুবাইয়ের আবহা, কুয়েত, বসরা ও এনটেব্বে রুটের ফ্লাইটগুলো বাতিল হয়েছে। একইসঙ্গে কেনিয়া এয়ারওয়েজের নাইরোবিমুখী এবং সেখান থেকে আগত ফ্লাইটের পাশাপাশি লাহোর, তেহরান ও কাঠমান্ডু সংযোগকারী বেশ কিছু ফ্লাইটের কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। শারজাহভিত্তিক এয়ার আরাবিয়ার ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে; তাদের গাসিম, তাবুক, দোহা, বাহরাইন, কুয়েত ও এনটেব্বে রুটের ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
আবুধাবি বিমানবন্দরে লাহোর থেকে আসা এয়ারসিয়ালের একটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং ইতিহাদের লন্ডন হিথরো ও আমস্টারডামগামী কয়েকটি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। ভারত, ইরান, ওমান ও সৌদি আরবের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশপথের সংযোগেও এই বিঘ্ন অনুভূত হচ্ছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ভারতের মধ্যকার রুটে বিলম্বের হার সবচেয়ে বেশি। দুবাই বিমানবন্দরে কোচি থেকে আসা স্পাইসজেটের একটি ফ্লাইট প্রায় ৭ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট বিলম্বে অবতরণ করেছে। এছাড়া ব্রিসবেন ও কায়রো থেকে আসা এমিরেটসের ফ্লাইট এবং মিনস্ক ও সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে আসা ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইটে উল্লেখযোগ্য বিলম্ব ঘটেছে।
তবে কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরগুলো পুরোপুরি সচল রয়েছে এবং কোনো আকাশসীমা বা বিমানবন্দর বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। মূলত আগের সূচি পরিবর্তনের ফলে উড়োজাহাজ ও ক্রু ব্যবস্থাপনায় যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা থেকেই এই বিলম্ব ও বাতিলের ঘটনা ঘটছে। এমতাবস্থায়, দুবাই, আবুধাবি বা শারজাহ দিয়ে যাতায়াতকারী সব যাত্রীকে বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে নিজ নিজ বিমান সংস্থার মাধ্যমে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।