• বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
গ্যাসের চাপ বাড়ায় গতি ফিরছে শিল্পকারখানায় মানবাধিকার সংস্কারে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, নতুন আইনে শঙ্কা এইচআরডব্লিউর মধ্যপ্রাচ্যে সম্মিলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার ডাক দিলেন কাতারের আমির বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪ শতাংশে নামিয়ে আনল এডিবি পুজোর মরশুমে বিমান ভাড়া নাগালে রাখতে উদ্যোগ কেন্দ্রের তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সাথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক সানিসাইড রেলইয়ার্ডের উন্নয়নে ট্রাম্প-মামদানির নতুন সমঝোতা উপনিবেশবাদী শাসন ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক রূপান্তর: এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ এআইয়ের ভুল তথ্যে ইরানের স্কুলে মার্কিন হামলা অপ্রতিম অকাল প্রয়াণ: আসামিদের পক্ষ নেবেন না কুমিল্লা আইনজীবী

মানবাধিকার সংস্কারে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, নতুন আইনে শঙ্কা এইচআরডব্লিউর

রিপোর্টার: / ০ পঠিত
আপডেট: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মানবাধিকার সংস্কারের ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের দেওয়া পূর্বের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটি জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া তিনটি নতুন আইন মানবাধিকারের সুরক্ষা বলয়কে সংকুচিত করেছে। মূলত ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া বিভিন্ন রক্ষামূলক পদক্ষেপ এসব আইনের মাধ্যমে বাতিল বা দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে, যা অতীতে দেশটিতে সংঘটিত গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো ভয়াবহ অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটার শঙ্কা তৈরি করেছে।

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা ও তদন্তের ক্ষমতা সীমিত করতে নতুন আইন পাস করে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশ জারি করে কমিশনকে গুম প্রতিরোধ, তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহি করার ক্ষমতা দিয়েছিল। কিন্তু নতুন আইনে কমিশনকে কেবল প্রতিবেদন তলব করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং কোনো ক্ষেত্রে তারা অসন্তুষ্ট হলে নিজস্ব অনুসন্ধানে নামার বিধান রাখা হয়েছে, যা জটিল ও অস্পষ্ট। এছাড়া নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং কমিশনের প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্তির দাবি থাকলেও সরকার কার্যত কেবল নাম পরিবর্তন করেছে। নতুন আইনের আওতায় এসআরবি বা ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ গঠন করা হয়েছে, যেখানে আগের ব্যাটালিয়নের সব সদস্য, সম্পদ ও নথি স্থানান্তর করা হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর এই বাহিনীতে পুরোনো লোগো ব্যবহারের পাশাপাশি সদস্যদের প্রশিক্ষণে স্বচ্ছতা বা জবাবদিহিতার কোনো নতুন বিধান রাখা হয়নি। বাহিনীটির সাবেক সাতজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং বিভিন্ন গুমের অভিযোগে সদস্যরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি। গত মে মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছিলেন, নাম পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করতে পারে, তবে বিশেষজ্ঞরা এতে মানবাধিকার সুরক্ষার অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সীমাবদ্ধতা দেখা গেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের করা অধ্যাদেশে মানবাধিকার কমিশনকে গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন ও তদন্তের যে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, নতুন আইনে তা সরিয়ে অভিযুক্ত ছাড়া অন্য কোনো নিরাপত্তা সংস্থাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়ার বিধান করা হয়েছে। এছাড়াও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সংবিধির মানদণ্ড অনুসারে কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধ করার যে সুযোগ ছিল, তা সীমিত করে নতুন আইনে কমান্ডিং অফিসারদের সরাসরি নির্দেশের প্রমাণ উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা যুক্ত করা হয়েছে, যা অপরাধীদের আড়াল করার পথ প্রশস্ত করতে পারে বলে মনে করছে এইচআরডব্লিউ।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক এলেইন পিয়ারসন মনে করেন, অতীত নিপীড়নের ঘটনা থেকে মুক্তি পেতে নিরাপত্তা খাতে সংস্কার এবং ক্ষমতার অপব্যবহার তদন্তে শক্তিশালী ও স্বাধীন মানবাধিকার সংস্থা অপরিহার্য। যদিও শেখ হাসিনার সরকারের আমলের তুলনায় বর্তমানে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের হার কমেছে, তবে বর্তমান সরকারও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আটকের পথ বেছে নিয়েছে। পিয়ারসন আরও উল্লেখ করেন, সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা তারেক রহমান এবং তার সরকারের এই পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বা প্যারিস নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সংস্থাটির ভাষ্যমতে, নতুন আইনের অধীনে খসড়া নীতিমালায় সদস্যদের মানবাধিকার যাচাই, স্বাধীন নজরদারি, গ্রেপ্তার ও আটকের ক্ষেত্রে সুরক্ষা এবং সামরিক কর্মকর্তাদের বেসামরিক দায়িত্ব পালন বন্ধের মতো বিষয়গুলো নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্যসহ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের উচিত সরকারের ওপর মানবাধিকার নীতির বিষয়ে জোরালো চাপ প্রয়োগ করা। বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ড নিরাপত্তা বাহিনীকে জবাবদিহিতা থেকে আড়াল করছে, যা ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উপরন্তু নিয়মিত পুলিশের ক্ষেত্রে যেটুকু সুরক্ষামূলক বিধান প্রযোজ্য, এই বাহিনীর ক্ষেত্রে তাও রাখা হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সংস্থাটি আরও উল্লেখ করে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে, যার মধ্যে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, জোরপূর্বক গুম, সমালোচকদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তৎকালীন আইনে সরকার বা সরকার-ঘনিষ্ঠদের প্রাধান্য থাকা একটি কমিটির মাধ্যমে কমিশনারদের বাছাই করা হতো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রথমবারের মতো নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদের প্রটোকল অনুযায়ী গোপন বন্দিশালা বা আটককেন্দ্রগুলো পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে একটি জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা গঠন করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার নির্বাচিত হওয়ার পর এই অধ্যাদেশটি সংসদে অনুমোদন করার প্রয়োজন ছিল, অন্যথায় তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যেত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিএনপি প্রশাসন অধ্যাদেশটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হতে দেয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত ৬ সেপ্টেম্বর বিরোধী আইনপ্রণেতাদের ওয়াকআউটের মধ্য দিয়ে সংসদে পাস হওয়া নতুন আইনে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সরাসরি তদন্তের ক্ষমতা মানবাধিকার কমিশনকে দেয়া হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ