• বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মধ্যপ্রাচ্যে সম্মিলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার ডাক দিলেন কাতারের আমির বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪ শতাংশে নামিয়ে আনল এডিবি পুজোর মরশুমে বিমান ভাড়া নাগালে রাখতে উদ্যোগ কেন্দ্রের তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সাথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক সানিসাইড রেলইয়ার্ডের উন্নয়নে ট্রাম্প-মামদানির নতুন সমঝোতা উপনিবেশবাদী শাসন ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক রূপান্তর: এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ এআইয়ের ভুল তথ্যে ইরানের স্কুলে মার্কিন হামলা অপ্রতিম অকাল প্রয়াণ: আসামিদের পক্ষ নেবেন না কুমিল্লা আইনজীবী ইস্তানবুল বিমানবন্দরে নতুন রানওয়ে চালু হচ্ছে বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্বকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান তারেক রহমানের

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪ শতাংশে নামিয়ে আনল এডিবি

রিপোর্টার: / ২ পঠিত
আপডেট: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা আরও কমিয়ে এনেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটির হালনাগাদ ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক’ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। গত জুলাই মাসের পূর্বাভাসে এই হার ৪ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হয়েছিল। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটি মূলত দেশের অর্থনীতির বর্তমান নাজুক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশে ব্যাংক খাতের গভীর সংকট, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের স্থবিরতা প্রবৃদ্ধির প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংকের ব্যালান্সশিট দুর্বল হওয়ায় এবং ঋণের উচ্চ সুদহারের কারণে বেসরকারি উদ্যোক্তারা ঋণ পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোর সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের প্রবণতা বাড়ায় বেসরকারি খাতে ঋণের সরবরাহ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থার অভাব অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে আরও জটিল করে তুলছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এই খাতে বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে জ্বালানি সংকট, ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ব্যয়, আন্তর্জাতিক বাজারে দুর্বল চাহিদা এবং ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা। এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের ঘাটতি এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক ও নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা শিল্পায়নের গতিকে মন্থর করে দিচ্ছে।

অর্থনীতির মূল চ্যালেঞ্জসমূহ

  • প্রাইভেট সেক্টর বিনিয়োগ: জ্বালানি ঘাটতি, উচ্চ সুদহার ও আস্থার সংকটে বেসরকারি বিনিয়োগ স্থবির।
  • সরকারি বিনিয়োগ: রাজস্ব ঘাটতি ও উন্নয়ন প্রকল্পের ধীরগতির ফলে সরকারি বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত সহায়তা পাওয়ার পথ সীমিত।
  • রপ্তানি ও আমদানি: বৈশ্বিক বাজারের অনিশ্চয়তায় রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধীরগতির হওয়ার পাশাপাশি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির চাপ রয়েছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়েও সংস্থাটি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা গত জুলাই মাসের ৮ দশমিক ৮ শতাংশ পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি। জ্বালানি, পরিবহন ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়ছে নিত্যপণ্যের দামে। এছাড়া সম্ভাব্য এল নিনোর প্রভাব ও প্রতিকূল আবহাওয়া কৃষি উৎপাদনকে ব্যাহত করতে পারে, যার ফলে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন করে খরচ বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

যদিও শিল্প ও কৃষি খাত চাপের মুখে রয়েছে, তবুও পরিষেবা খাত কিছুটা ইতিবাচক অবস্থানে থাকতে পারে। আগামী অর্থবছরে এই খাতের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৭ শতাংশ অর্জিত হতে পারে বলে এডিবি আশা করছে। মূলত প্রবাসী আয় বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কিছুটা পুনরুদ্ধারের ওপর ভর করেই এই খাত টিকে থাকার চেষ্টা করবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে ব্যাংক খাতের সংস্কার, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করার কোনো বিকল্প নেই বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এডিবির মতে, ভবিষ্যতে মুদ্রানীতি কিছুটা শিথিল করা হলেও ব্যাংক খাতের দুর্বলতা ও অন্যান্য সরবরাহগত সমস্যা থাকলে এর সুফল দ্রুত অর্থনীতিতে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ