
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে অভিযান চালিয়ে শতাধিক স্বর্ণের বার জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিমানের বিজি-৫৮৫ নম্বর ফ্লাইটে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধারের এই ঘটনায় বিমানবন্দর এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। যদিও জব্দকৃত স্বর্ণের প্রকৃত সংখ্যা, মোট ওজন ও বর্তমান বাজারমূল্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এই অভিযানের মাধ্যমে উদ্ধার করা স্বর্ণের বারগুলো হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে উদ্ধারকৃত স্বর্ণের ওজন ও সঠিক সংখ্যা নিরূপণের কাজ চলমান রয়েছে। সব ধরনের যাচাই-বাছাই ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবেই এই নির্দিষ্ট ফ্লাইটে তল্লাশি চালানো হয়।
ঘটনার পর থেকে সংশ্লিষ্ট বিমান ও স্বর্ণের চালানের উৎস অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে গোয়েন্দা দল। কারা এই চালানের সঙ্গে জড়িত বা এর নেপথ্যে কাদের হাত রয়েছে, তা শনাক্ত করতে গভীর জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে আটকের কোনো তথ্য নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের চালানটির প্রকৃতি এবং এর পেছনের মূল হোতাদের চিহ্নিত করতে গোয়েন্দারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
তদন্তকারী সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জব্দকৃত সোনার পরিমাণ ও মূল্য নির্ধারণসহ আইনগত সব প্রক্রিয়া শেষে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। অবৈধভাবে স্বর্ণ আনা ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অসাধু চক্রকে আইনের আওতায় আনাই এখন প্রধান লক্ষ্য। তদন্তের বর্তমান পর্যায়ে কোনো কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে কি না, সে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযানটি সম্পন্ন হওয়ার পর পুরো বিমানবন্দর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিজি-৫৮৫ ফ্লাইটেও এমন অভিযানের অংশ হিসেবে তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একইসঙ্গে এ ঘটনায় কারা জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে সোনার চালানটি আনা হয়েছিল, তা বের করার চেষ্টা চলছে।