• বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মানবাধিকার সংস্কারে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, নতুন আইনে শঙ্কা এইচআরডব্লিউর মধ্যপ্রাচ্যে সম্মিলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার ডাক দিলেন কাতারের আমির বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪ শতাংশে নামিয়ে আনল এডিবি পুজোর মরশুমে বিমান ভাড়া নাগালে রাখতে উদ্যোগ কেন্দ্রের তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সাথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক সানিসাইড রেলইয়ার্ডের উন্নয়নে ট্রাম্প-মামদানির নতুন সমঝোতা উপনিবেশবাদী শাসন ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক রূপান্তর: এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ এআইয়ের ভুল তথ্যে ইরানের স্কুলে মার্কিন হামলা অপ্রতিম অকাল প্রয়াণ: আসামিদের পক্ষ নেবেন না কুমিল্লা আইনজীবী ইস্তানবুল বিমানবন্দরে নতুন রানওয়ে চালু হচ্ছে বৃহস্পতিবার

মধ্যপ্রাচ্যে সম্মিলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার ডাক দিলেন কাতারের আমির

রিপোর্টার: / ০ পঠিত
আপডেট: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা ও উত্তরণের পথ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। তিনি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে কূটনৈতিক আলোচনার কোনো বিকল্প নেই। বছরের পর বছর ধরে ভুল ও অস্থায়ী নীতিমালা অনুসরণ এবং সংকট ব্যবস্থাপনায় অদূরদর্শিতার কারণেই আজ মধ্যপ্রাচ্য ইতিহাসের অন্যতম বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।

ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তজনা, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে সামরিক হামলা এবং বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ জ্বালানি বাণিজ্যের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। কাতারের আমির বলেন, যদি এখনই সম্মিলিত আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা না হয়, তবে যেকোনো একটি পক্ষের হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে পুরো অঞ্চল এমন যুদ্ধের দিকে ধাবিত হতে পারে, যা আসলে তাদের নিজেদের লড়াই নয়। এর ফলে সংঘাত ও প্রাণহানির ব্যাপক বিস্তার ঘটবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ধ্বংস হবে।

গাজা প্রসঙ্গে শেখ তামিম অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বর্তমান বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরেন। ফিলিস্তিন ইস্যুকে উপেক্ষা করে কোনো ন্যায়সংগত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। গাজার মানবিক পরিস্থিতিকে তিনি সরাসরি ‘গণহত্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, এই বিপর্যয়ের ব্যাপকতা এবং আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়ার মধ্যে বিশাল একটি শূন্যতা রয়ে গেছে। তিনি ইসরায়েলের প্রতি অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ, অবরুদ্ধ গাজা থেকে সৈন্য প্রত্যাহার এবং কোনো শর্ত ছাড়াই মানবিক ত্রাণ প্রবেশের পথ উন্মুক্ত করার আহ্বান জানান।

ফিলিস্তিনিদের মৌলিক অধিকারের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে তিনি পশ্চিম তীরে বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা ও দখলের তীব্র নিন্দা জানান। তিনি পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকার এবং আল-আকসাসহ বিভিন্ন পবিত্র স্থানের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার দাবি জানান। এছাড়া সিরিয়া ও লেবাননের ওপর ইসরায়েলি হামলার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি; বিশেষ করে ১৯৬৭ সাল থেকে গোলান মালভূমি ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে থাকা এবং দক্ষিণ লেবাননের গ্রামগুলো ধ্বংসের বিষয়েও তিনি সরব হন।

আঞ্চলিক অস্থিরতা নিরসনে তিনি রাষ্ট্রযন্ত্রের বাইরে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবসান ঘটানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি লিবিয়া ও সিরিয়ার জাতীয় পুনর্গঠন ও মিলনের প্রচেষ্টায় সমর্থন এবং ইয়েমেন সংকট নিরসনে শান্তিপূর্ণ সংলাপের পক্ষে কাতার সরকারের দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেন। এছাড়া সুদানে টেকসই শান্তি ফেরাতে অন্তর্ভুক্তিমূলক আলোচনার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন শেখ তামিম।

ভাষণের সমাপনীতে আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি দৃঢ়কণ্ঠে ঘোষণা করেন যে, কাতারের বৈদেশিক নীতি ও জাতীয় মূল্যবোধ কেবল স্লোগান নয়, বরং এটি আত্মমর্যাদা ও ন্যায়নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি বলেন, প্রজ্ঞা ও দৃঢ়তা হলো যেকোনো রাষ্ট্র ও কূটনীতির মূল চালিকাশক্তি, যার মাধ্যমে সংঘাত কমিয়ে স্থিতিশীল বিশ্ব গঠন সম্ভব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, এমন নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকলে একটি পক্ষ তার প্রতিবেশী দেশগুলোকে এমন একটি যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে পারে, যে যুদ্ধ তাদের নিজেদের নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গাজায় যা ঘটেছে, তাকে তিনি ‘সব অর্থেই গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, এই বিপর্যয় ঠেকাতে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার মাত্রা ও বিপর্যয়ের ব্যাপকতার মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শেখ তামিম অভিযোগ করেন, গাজার জনগণকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়াকে সমাধান হিসেবে দেখার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মধ্যপ্রাচ্য বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে বিপজ্জনক সময়গুলোর একটির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতির প্রভাব পুরো বিশ্বেই পড়ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইরানসহ পুরো অঞ্চলের জন্য দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এই সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ