‘বিভেদের রাজনীতি চললে স্বৈরাচারের ফেরার সুযোগ তৈরি হবে’—রুহুল কবির রিজভী
উপশিরোনাম:
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রাখার আহ্বান; নার্সদের অবদানকে ‘মানবতার দৃষ্টান্ত’ বলে অভিহিত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি রাজনৈতিক আন্দোলন নয়, এর একটি গভীর দার্শনিক ভিত্তি রয়েছে। বিভেদ ও বিভাজনের রাজনীতি অব্যাহত থাকলে স্বৈরাচারী শক্তি পুনরায় মাথাচাড়া দেওয়ার সুযোগ পেতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘রক্তঝরা জুলাইয়ে নার্সদের অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান নাগরিক স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং নির্ভয়ে বেঁচে থাকার অধিকারের প্রতীক। দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে। এতে বিএনপি, ছাত্রদল এবং দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শত শত নেতাকর্মী জীবন উৎসর্গ করেছেন।
অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, বিভেদের রাজনীতি পরিহার করে জাতীয় ঐক্যকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। অন্যথায় স্বৈরাচারী শক্তি সেই পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে।
রিজভী আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে রাজনীতি ও নাগরিক অধিকারকে দমন করেছিলেন। নতুন প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে এবং সমাজে ঘৃণা ও বিভেদ ছড়ানোর প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। তা না হলে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জনগণের আত্মত্যাগের মূল্য ক্ষুণ্ন হবে।
তিনি দাবি করেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন, ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ও ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির শুরু থেকেই বিএনপি পূর্ণ সমর্থন দিয়েছিল। এসব আন্দোলনে ছাত্র-জনতার পাশাপাশি শ্রমিক, রিকশাচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ ইতিহাসে বিরল দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার মানবকল্যাণ, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং নার্সদের পেশাগত মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নার্সদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আহত ছাত্র-জনতার পাশে দাঁড়িয়ে তারা মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। নার্সরা স্বাস্থ্যসেবার প্রথম সারির যোদ্ধা। তাই তাদের যথাযথ মূল্যায়ন ও স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন নিশ্চিত না করলে দেশের সার্বিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, অতীতের সরকার স্বাস্থ্যখাতকে অবহেলা করলেও বর্তমান সরকার এ খাতের সংস্কার ও আধুনিকায়নে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।